প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ শিখিতেছে, কেহ বা করিতেছে ছড়া মুখস্থ । রাখালকে দেখিয়া সারদা ব্যস্ত অধৰ৷ আশ্চর্ঘ্য হইল না। আস্তে আন্তে উঠিয়া ছেলেদের বলিল, যাও, তোমাদের এখন ছুটি। দুপুরবেলায় আজ পড়তে হবে। ছেলেরা চলিয়া গেলে সারদা রোয়াক হইতে উঠানে নামিয়া রাখালকে প্রণাম করিয়া বলিল, দাড়িয়ে রইলেন কেন, ঘরে বসবেন চলুন। রাখাল শুষ্ক-কণ্ঠে কহিল, নাং, বসবার সময় নেই। দু-একটা কথা জিজ্ঞেস করেই চলে যাব । রাখাল হয়তো মনে মনে আশা করিয়াছিল সারদা তাহাকে অভাবিতরূপে দেখিতে পাইয়া বিস্ময়ে আনন্দে অভিভূত হইবে। কিন্তু সারদার ব্যবহারে মনে হইল রাখাল ষে আজ এই সময়ে আসিবে তাহা যেন সে পূৰ্ব্ব হইতে জানিত। একে রেণুর টেলিগ্রাম পাইয়া মন ছিল উদ্বিগ্ন চঞ্চল, তাহার উপর সারদার সহজ শান্ত অভ্যর্থনা রাখালের চিত্ত বিরূপ করিয়া তুলিল। মনের ভিতরে এমন একটা অহেতুক অভিমান গুমরাইতে লাগিল যাহার কারণ স্পষ্ট নির্দেশ করা কঠিন । রাখাল বলিল, তুমি মার সঙ্গে হরিণপুর যাওনি শুনলাম। সারদা চুপ করিয়া রহিল। উত্তর না পাইয়া রাখাল পুনরায় বলিল, কেন গেল না জানতে পারি কি ? সারদা তথাপি নিরুজ্ঞর । রাখাল কহিল, নতুন-মাকে একলা না পাঠিয়ে তার সঙ্গী হওয়া তোমার উচিত ছিল না কি ? সারদ। কোনই উত্তর দেয় না দেখিয়া রাখালের মনের মধ্যে উত্তাপ উত্তরোত্তর বাড়িতেছিল। মৌনতা ভাঙাইবার জন্যই বোধ হয় একবার বলিয়া বসিল, আমার ঋণ তো সেদিন কড়ায় গণ্ডায় শোধ করে দিয়েচো, সুতরাং কথার উত্তর না দিলেও চলে, কিন্তু নতুন মার ঋণও এরই মধ্যে গুধে ফেলেচ নাকি সারদা ? সারদার মুখে বেদনার চিহ্ন সুস্পষ্ট হইয়া উঠিল। তবুও সে এই কঠিন উপহাসের উত্তর দিল না। মুম্বকণ্ঠে বলিল, আপনার যা বলবার আছে ঘরে এসে বলুন । এখানে দাড়িয়ে হাটের মাঝখানে বলবেন না। ঘরে গিয়ে বসুন। আমি এখুনি আসচি। চলে যাবেন না আমার অনুরোধ রইলো। কথাগুলি বলিতে বলিতেই সারা মূহূৰ্ত্তমধ্যে রোয়াকের অন্ত পাশে বেড়া-দেওয়া অপর ভাড়াটের অংশে অস্তৰ্হিত হইয়া গেল। বিরক্ত রাখাল তাহার উদ্দেশে ব্যস্ত মুরে বলিতে লাগিল, না না, বসবার আমার মোটেই সময় নেই। এগুনি যেতে হবে। বা বলতে এসেচি-স্তনে যাও—

    • *