প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/১৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সারদা এইবার ঠোট টিপিয়া হাসিতে হাসিতে চায়ের পেম্বালা হাতে তুলিয়া দিয়া নি:শবে বাহির হইয়া গেল। অল্প একটু পরে শাদা কাচের একখানি প্লেটে খানৰয়েক গরম শিঙাড়া ও গার্ট-দুই টাটক রাজভোগ রসগোরা লইয়া ফিরিয়া আসিল । রাখাল প্লেটের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া কছিল, ও সব আবার আনলে কেন সারদা ? সারা গভীর-মুখে বলিল, চায়ের সঙ্গে জলযোগের জন্য। কিন্তু চায়ের পেয়ালাটি ষে খালি করে দিতে হবে এবার। আর এক পেয়ালা চ আপনাকে ছেকে দেব । আমার অন্য পেয়ালা আর নেই। রাখাল এবার আর আপত্তি তুলিল না। এক নিশ্বাসে অবশিষ্ট চা-টুকু পান করিয়া লইয়া পেয়ালাটি মেঝেয় নামাইয়া দিল। তাহার পর নির্কিকারে তুলিয়া লইল খাবারের প্লেটখানি । সারদা দ্বিতীয় পেয়াল চা লইয়া সম্মুখে আসিয়া দাড়াইলে রাখাল খাবার খাইতে খাইতে মুখ না তুলিয়াই প্রশ্ন করিল, আচ্ছা সারদা, তুমি নিজে ত চা খাও না। ঘরে চায়ের সরঞ্জাম রেখেচ কার জন্তে ? সারদা নিরীহ-মুখে বলিল, এই ধরুন, তারকবাবু-টাবুরাখাল বলিল, ও—বুঝেছি। অৰ্দ্ধসমাপ্ত শিঙাড়াটি শেষ করিয়া খাবার সমেত প্লেটখানি রাখাল নামাইয়া রাখিল । সারদা ব্যস্ত হইয়া ঝু কিয়া পড়িয়া অকৃত্রিম ব্যগ্রতায় বলিয়া উঠিল, ও কি ? রসগোল্লা মোটে ছুলেণই না যে ! না না, তা হবে না দেবতা ! তুলে নিন রেকাবি। সবগুলি না খেলে আমি মাথা খুঁড়ে মরবো কিন্তু বলে রাখচি। অকস্মাং সারদার এই আস্তরিক চাঞ্চল্যে রাখাল হতভম্ব হইয়া বিমূঢ়ের মত পরিত্যক্ত প্লেট তুলিয়া লইয়া বলিল, কিন্তু আমার যে সত্যি খেতে রুচি নেই সারদা ! সমস্ত খাবারগুলি না খেলে কি যথার্থই তোমার কষ্ট হবে ? সারদা আরক্ত মুখে কহিল, হ্যা-হ্যা, হবে। আপনি খান বলচি। রসগোল্লা আপনি কত ভালবাসেন আমি জানিনে বুঝি ? সকালে গরম শিঙাড়া চায়ের সঙ্গে রোজই তো আনিয়ে খান ? বলুন, খান না ? রাখাল বিস্থিত কৌতুকে বলিল, কিন্তু তুমি এ সব গুপ্ত সংবাদ জানলে কেমন করে ? সারদা শান্তভাবে কহিল, আমি জানি। তারপরে হাসিতে হাসিতে বলিল, আচ্ছা সত্যি করে বলুন তো এক পেয়াল চায়ে আপনার কোনও দিন তেষ্ট মেটে ? ভূপেয়ালা চা না হলে মন ৰংষ্ট্রং করে না কি ? ४१३