প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেবের পরিচয় সবিতার মুখে বেদনার চিহ্ন স্বম্পষ্ট হইয়া উঠিল। ক্লিষ্ট-কণ্ঠে কহিলেন, জামি চেষ্টা করেছিলাম রাজুকে দিয়ে ওর ঐ উলের সামগ্ৰী কেনবার। সে রাজুকে বেচত্তে চায়নি । কেন মা ? রাজু যে-দামে ওকে বেচে দিতে চেয়েছিল, সে-দাম নিতে রাজি হয়নি। বলেছিল, এ তোমাদের সাহায্য করার ফন্দি । সারদা স্তন্ধ হইয়া রহিল। সবিতার শাস্ত-গম্ভীর মূৰ্ত্তির পানে তাকাইয়া মনে মনে ভাবিতে লাগিল, ঐ স্থির প্রশাস্তির অন্তরালে কি বিক্ষুব্ধ ঝাটকাই না বহিয়া চলিয়াছে সংসারে কেহই তাহার সন্ধান জানে না। সারদা বলিল, মা, শুনেছিলাম রেণুর জন্ত একটি ভাল ডাক্তার পাত্রের সন্ধান এনেছিলেন দেব তা । সে সম্বন্ধের কি— উদগত দীর্ঘশ্বাস চাপিয়া সবিতা বলিলেন, সে হ’লো না । মেয়ে বিয়ে করবে না পশ করেচে । সারদা আস্তে আস্তে বলিল, এমন বুদ্ধিমতী মেয়ে হয়েও সে– তাহার কথা শেষ হইবার পূর্বেই সবিতা বলিলেন, সে নাকি বলেচে, হিছর মেয়ের দু'বার গায়ে হলুদ হয় না। বাগদত্ত মেয়েও বিবাহিতারই সামিল। আমার বিবাহের ব্যাপার বাগদানের পর অনেকদূর পর্য্যন্ত এগিয়েছিল। এখন আবার দু'বার করে সে ব্যাপারগুলো হোক এটা আমি চাইনে। তোমরা আমার বিয়ের চেষ্টা ক’রো না রাজু, ওতে আমার মঙ্গল হবে না অামি জেনেচি । সবিতা চুপ করিলে সারদা ব্যাকুল-কণ্ঠে বলিয়া উঠিল, তাই যদি মেয়ের মত, তা হলে না হয় সেই পাত্রেই রেণুর বিয়ের চেষ্ট করুন না, যার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়ে ওর গায়ে-হলুদ পর্য্যন্ত শেষ হয়েছিল ! ভাগ্যে থাকলে স্বামী হয়তো পাগল না-ও হতে পারে । সবিতা স্নান হাসিয়া বলিলেন, সেই পাত্রেরই সঙ্গে সাত-আটমাস আগে রেণুর বৈমাত্র-বোন রাণীর বিয়ে হয়ে গেছে । শুনিস্থা সারদা স্তম্ভিত হইয়া গেল । একটা মৰ্ম্মভেদী দীর্ঘশ্বাসের সহিত সবিতা বলিলেন, আমার ভূলেই এমনট হ’লো । সারদা নিম্পলক-নেত্ৰে সবিতার মুখের পানে চাহিয়া রহিল। সবিতা মৃদুস্বরে স্বগতভাবেই বলিতে লাগিলেন, এত শীঘ্ৰ গৃহহীন হয়ে হয়তো বা ওদের পথে দাড়াতেও হতো না, আমি যদি না অমন জেদ করে রেণুর বিয়ে वक করতাম। অবশ্ব পথে ওদের একদিন-না-একদিন নামতে হতোই, আমি সেট। 》,