প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


अंङ्ग९-मांश्छि-ज९¢वंझ এগিয়ে দিয়েছি মাত্র। অন্তত: রেপুর বিমাতা এত সহজেই চট করে সম্পত্তির অংশ ভাগ করে নিয়ে পৃথক হয়ে যাওয়ার অছিলা পেতেন না। শিবুর যা আসিয়া ডাকিল, মা, দাদাবাবু ভিতর-বাড়িতে এসেচেন, তার খাবার দেবেন চলুন । রাত হয়ে যাচ্চে। সারদ। ত্বন্ধিতে উঠিয়া দাড়াইয়া বলিল, আপনাকে যেতে হবে না মা, আমিই তারকবাবুর খাবার দিচ্চি গিয়ে, আপনি বরং একটু বিশ্রাম করুন। না সারদা, চলে আমিও যাই । সে ব্যস্ত হবে, খাওয়ার কাছে আমাকে দেখতে ন পেলে । সারদার সহিত সবিতাও নীচে নামিয়া গেলেন। হরিশপুর হইতে ফিরিয়া আসিয়া সবিত বাসা বদলাইয়াছেন। রমনীবাবুর সেই পুরাতন বাড়িতে প্রবেশ করিতে আর প্রবৃত্তি হয় নাই। নিয়মিত দুর্লঙ্ঘ্য বিধানে সুদীর্ঘ বারো বৎসরের অধিককাল যেখানে প্রতি পদে আত্মহত্যার দুৰ্ব্বিসহ যন্ত্রণা ভোগ করিয়াও, আচ্ছন্নতার মধ্যে অৰ্দ্ধ অচেতনবৎ কাটাইতে হইয়াছে, আজ সেই বাড়িখানির দিকে তাকাইতেও আতঙ্কে শরীর শিহরিয়া ওঠে। অথচ ঐ বাড়ি হইতেই আশ্রয়-চুতির সম্ভাবনায় এই সেদিনও তো তাহাকে ভাবনায় দিশাহারা হইতে হইয়াছিল। দীর্ঘকাল নিজের রুচিকে নিষ্ঠুরভাবে নিষ্পেষিত করিয়া, স্বভাবের বিপরীত স্রোতে অগ্রসর হওয়ার ফলে যে অপরিসীম প্রাস্তিতে তিনি অবসর হইয়া পড়িয়াছিলেন, সে ভার ক্রমেই দিনের পর দিন দুঃসহ হইয়া উঠিতেছিল। বিমলবাবু যে বাড়িখানি ব্ৰজবাবু ও রেণুর জন্ত ঠিক করিয়া রাখিয়াছিলেন, সবিতা সেই বাড়িটিতে উঠিয়াছেন। বিমলবাবু কলিকাতায় নাই। ব্যবসায়-সংক্রান্ত জরুরী টেলিগ্রাম আসায় সিঙ্গাপুরে প্রত্যাবর্তন করিয়াছেন। সবিতার দেখাশুনার ভার লইয়া রাখালকে এই নূতন বাসায় থাকিবার জন্ত বিমলবাবু অনুরোধ করিয়াছিলেন। নতুন-মার তত্ত্বাবধান-ভার লইতে সন্মত হইলেও তাহার বাসায় বসবাস করিতে রাখাল অক্ষমতা জানাইয়াছিল। বিমলবাবুর নিকট এ সংবাদ শুনিয়া তারক স্বেচ্ছায় নতুন-মার বাসায় থাকিয় তাহার তত্ত্বাবধানের ভার গ্রহণ করিয়াছে। সবিতার আমুকুল্যে তারক বর্তমানের স্কুল মাস্টারি ছাড়িয়া দিয়া হাইকোর্টে প্র্যাক্টস শুরু করিয়াছে। একতলায় বহিৰ্ব্বাটতে তাহার বসিবার ঘর আইনজীবীর প্রয়োজনীয় উপযুক্ত আসবাবপত্রে নিখুঁতভাবে সাজাইয়া দেওয়া হইয়াছে। বিমলবাৰু নিজে ব্যবস্থা করিয়া তাহাকে হাইকোর্টের একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠ উকীলের জুনিয়র করিয়া দিয়াছেন। বিমলবাবুই ছোট মোটর গাড়িখানিতেই সে আদালতে যাতায়াত কৰে । ২১২