প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সারদার কণ্ঠে নির্লিপ্ততায় তারক গজিয়া উঠিল—কি, এতবড় মিথ্যে অপবাদ ! স্থামি নৃতম-মার খবর রাখি না । দেখাশোনার ক্রটি করি ? , , অকারণ চেচাবেন না। আমি-ও-সব কিছুই বলিনি। * নিশ্চয়ই বলেচেন। আমি বুঝতে পারচি, আমার বিরুদ্ধে একটা যড়যন্ত্র চলচে । আজ রাত্রেই আমি সব লিখে দিচ্ছি বিমলবাবুকে । লিখতে আপনি পারেন ; কিন্তু নতুন-মা তাতে বিরক্ত হবেন। আমার কৰ্ত্তব্য আমি করবোই। সমস্ত দায়িত্ব তিনি আমার উপরে দিয়ে গিয়েচেন, এ কথা ভুললে তো আমার চলবে না ! নতুন-মার রুচি-অরুচির উপরে জুলুম করতে তিনি কাউকেই বলে যাননি। বলবেনই বা কেন ? সে অধিকার কারো নেই। বিন্দ্রপপূর্ণ কণ্ঠে তারক বলিল, তা হলে সে অধিকারটা কার আছে শুনি । রাখালবাবুর নয় আশা করি ? সারদার দৃষ্টি কঠোর হইয়া উঠিল। নিজেকে প্রাণপণে দমন করিয়া মৃদুকণ্ঠেই বলিল, নতুন মার উপর জোর করবার অধিকার যদি আজ কারে থাকে তো রাখালবাবুরই আছে, আর কারো নেই। মৃদু-স্বরে কথিত কথাগুলি তীক্ষাগ্র স্থচের স্তায় তারককে বিদ্ধ করিল। গৃঢ় ক্ৰোধ সংযত করিতে না পারিয়া তারক বলিয়া উঠিল, তা তো বটে। সেইজন্য তিনি নতুন-মার অসহায় অবস্থায় দেখা-শোনা করার ভারটুকু পৰ্য্যন্ত নিতে পারলেন না ? নতুন-মার বাড়িতে এসে থাকলে পাছে তার স্বনামে কালি লাগে। শান্ত-গলায় সারদা কহিল, যারা স্বার্থের প্রয়োজনে সব কিছুই করতে প্রস্তুত, রাখালবাবু তাদের দলের লোক নন। নতুন-মাকে দেখা-শোনার ভার নেওয়ার নতুন-মারই পক্ষ থেকে ঢের বড় কর্তব্যভার তিনি নিয়ে রয়েচেন ? আপনি তা জানেন না, কাজেই বুঝতে পারবেন না। উত্তরের অপেক্ষা না করিয়া সারদা সিড়ি বাহিয়া নামিয়া চলিয়া গেল ! ছুপুরবেলায় সম্ভ:স্নাত সবিতা সিক্ত কেশের ঘন পুঞ্জ পিঠের পরে ছড়াইয়া রৌন্ত্রে পিঠ রাখিয়া নিবিষ্টচিত্তে পত্র লিখিতেছিলেন। পরিধেয় শাড়ির কালো পাড়টি শখের মত সুন্দর গ্রীবার একপাশ দিয়া লতাইয়া গিয়া পিঠের পরে বাকিয়া পড়িয়া আছে, উদাস বিষ ছায়াশীর্ণ শুভ্র মুখে সকরুণ স্ত্র বিকশিত করিয়া তুলিয়াছে। সারদা সেইখানেই বারান্সার একধারে বসিয়া নিজের জন্য একটি সেমিজ সেলাই করিতেছিল। পথের দিকে চাহিতে দেখিতে পাইল রাখাল আসিতেছে। সেলাইট হাতে নিয়াই সে নীচে নামিয়া গেল সদর-দরজা খুলিয়া দিতে। ቅU¢