প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় আধখানা হয়ে ফিরেচে। আমি যে এর চেয়ে কম কালো ছিলাম বা বেশি মোটা ছিলাম তার উপযুক্ত প্রমাণ কৈ সারদা-মা ? সারদা লজ্জিত হইয়া পড়িল । বিমলবাবু কথা এড়াইয়া বলিল, বস্থন, মাকে ডেকে দিচ্চি । ডাকিতে হইল না। রান্নাঘর হইতে সবিতা বাহির হইয়া আসিলেন। পরিধানে আধময়লা মোটা মিলের শাড়ি, শুভ্র ললাটের পরে ও কানের পাশে কেশগুচ্ছ রুক্ষ রেশমের স্তায় দুলিতেছে। চেহারা আগের চেয়ে অনেক শীর্ণ। আয়ত নয়নদ্বয়ের নিম্প্রভ দৃষ্টিতে চাপা বিষন্নতার ছায়া। সবিতার শরীর এত বেশি খারাপ দেখিবেন বিমলবাবু বোধহয় আশা করেন নাই, তাই চকিত হইয়া বলিলেন, এ কি, তোমার শরীর এত বেশী খারাপ হয়ে পড়লো কি করে ? অসুখ করেনি তো ? ভোরের অন্ধকার আকাশে পাণ্ডুর আলোর মতো মৃদু হাসিয়া সবিতা ৰলিলেন, অম্লখ করেনি ; কিন্তু তুমি যে আমাকে লিখেছিলে জাহাজ থেকে নেমে নিজের বাড়িতেই উঠবে। সেখানে স্নানাহার সেরে বিকেলের দিকে এখানে আসবে ! অথচ এ তো দেখচি একেবারে ধুলে-পায়েই উত্তরণ । সারদা অন্তত্ৰ চলিয়া গেল। গমনশীলা সারদার পানে একবার দৃষ্টিপাত করিয়া কণ্ঠস্বর একটু নিয়ে নামাইয়া বিমলবাবু বলিলেন, ধূলো-পায়েই দেবীদর্শন যে শাস্ত্রের বিধি । তাই নাকি ? বিশ্বাস না হয় পঞ্জিকা খুলে দেখতে পারো। কিন্তু সে-কথা থাক। আমার প্রশ্নের উত্তর দাও । কি প্রশ্ন ? শরীর এত বেশি খারাপ হ’লো কেন ? ঠোটের কোণে সবিতার চাপাহাসি ফুটিয়া উঠিল। বিমলবাবুরই ক্ষণপূৰ্ব্বে সারদাকে বলার অবিকল ভঙ্গিতে কহিলেন, দুনিয়ার দয়াময়দের নজর অসহায় দীনদুঃখীদের সম্বন্ধে চিরকাল ধরে ঐ একই কথা বলে আসচে। সবিতার মুখে আপনার কথার অমুকুতি শুনিয়া বিমলবাবু উচ্চকণ্ঠে হাসিয়া উঠিলেন। সবিতাও হাসিতে লাগিলেন । অস্পষ্ট বেদন-ছায়াছন্ন গৃহের আকাশ-বাতাস যেন বহুদিন পরে আজ উন্মুক্ত হাসির স্বচ্ছ-ধারায় মালিন্তহীন হইয়া উঠিল। বিমলবাবু বলিলেন, তোমার কাছে হার মানচি সবি—রেণুর মা । সবিতা বলিতে গিয়া বিমলবাবু যে তাড়াতাড়ি সেটা সামলাইবা রেণুর ম{ १२४)