প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*ब्र६-नश्ङि7-नर¢श् জানি । মাপ করে । তোমাকে অকারণ আঘাত করলাম, আমার অপরাধের শেষ নেই। তারপর অস্তমনস্কচিত্তে সবিতা কি যেন ভাবিতে লাগিলেন। বিমলবাবু নীরবে একদিকে তাকাইয়া বুহিলেন। অনেকক্ষণ নিঃশব্দে কাটিয়া গেল । বিমলবাবু ডাকিলেন, সবিতা— কি বলচো ? সত্যি করে বলে, তুমি কি আমায় ভয় করো ? কি জন্ত ভয় । সবিতার কণ্ঠে বিস্ময় ধ্বনিত হইল । বিমলবাবু জবাব দিতে ইতস্তত: করিতেছেন দেখিয়া সবিতা মান হাসিয়া বলিলেন, তোমাকে ভয়ের তো আমার কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। কি ক্ষতি বাকী আছে এখনও যার জন্ত ভয় করবো । বিমলবাবু বলিলেন, জীবনের উপর এত বড় অভিমান আর যে করে করুক তোমাকে করতে দেবে না। মানুষের যা-কিছু মৰ্য্যাদা জীবনের একটা কোনও আকস্মিক দুর্ঘটনায় নিঃশেষে ভষ্ম হয়ে যায় না। যতক্ষণ বেঁচে থাকে মাস্থ্য, ততক্ষণ তার সবই থাকে। কোন কিছুই ফুরিয়ে যায় না। সবিতা মৌন রহিলেন। কতক্ষণ পরে স্থির-গলায় বলিলেন, তোমাকে ভয় একটুও কম্বিনে। বরং তোমার সম্বন্ধে নিজের এই একান্ত নির্ভরতাকে ভয় করেচি এতদিন । এখন সে ভয়ও কেটেচে । তোমাকে আমি বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, সংসারে আর বুঝি কোনও মেয়েই এমন কোনও নিঃসম্পৰ্কীয় পুরুষকে নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করতে পারেনি । অল্প থামিয়া কণ্ঠস্বর একটু নীচু করিয়া সবিতা আবার বলিলেন, আমি জানি তুমি কোনদিন আমাকে নীচে নামাতে পারো না । পুরুষদের কাছে মেয়েদের অপমান ও অবহেলা যা হতে ঘটে, তা তুমি কখনও ঘটতে দেবে না। সবার চেয়ে বড় কথা, জামাকে বুঝতে তোমার ভুল হয়নি। বিমলবাবু মুম্বুকণ্ঠে কহিলেন, মানুষ মানুষই, দেবতা তো নয়। তার সমস্ত ভালো জন্ম দোষ গুণ ; বলিষ্ঠতা দুৰ্ব্বলতা নিয়েই তার সমগ্র রূপ। সুতরাং তার উপরে কি এতটা বেশি বিশ্বাস রাখা সঙ্গত ? কি সঙ্গত আর কি অসঙ্গত জানিনে। বুদ্ধি দিয়ে বিচার করে জানতে চাইওনে । ব। মিজের অন্তরের মধ্যে একান্তভাবে অমুভব করেছি তাই বললাম মাত্র। বিমলবাবু বলিলেন, তোমার সংস্পর্শে এসে কি আমার লাভ হয়েছে জানো সবিতা ? আমি সৰ্ব্বপ্রথম অনুভব করেছি, জকল্যাশের ভিতর দিয়েও পর্মকল্যাণ এসে জীবনকে স্পর্শ করে। ૨૭૭