প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেধের পরিচয় সবিতা বলিলেন, মানি এ-কথা আমি । অকল্যাশের পথেই আমার দীর্ঘ চলার ক্লান্ত সাঝে তোমার সঙ্গে হয়েছিল হঠাৎ সাক্ষাং হয়েছিল বিরুদ্ধ আবেষ্টনের মধ্যে অবাছিত পরিচয় । ভাগ্যে জোর করে তুমি সেদিন দেখতে এসেছিলে श्रांभाळक ! বিমলবাবু আহত হইয়া অকৃত্রিম দুঃখিত স্বরে বলিলেন, এ ধারণা তোমার সত্য নয় সবিতা। জীবনের অজ্ঞাত পথে মামুষের সাথে মানুষের নিবিড় পরিচয় কবে কোনদিন কোথা দিয়ে কেমন করে ঘটে যায়, কেউই জানে না। কথাটা আমি আমার নিজের দিক থেকেই বলেছিলাম। এতদিন নিজেরও অতীতের অপরিচ্ছন্ন অংশটার পানে তাকিয়ে হয়েচে বিতৃষ্ণ, হয়েছে ঘৃণা, ক্ষোভ, লজ্জা । কতবার ভেবেচি, জীবনের অশুচি অংশটাকে যদি কোনও উপায়ে ধুয়ে সাদা করে ফেলা যেতো ! ছিড়ে নিশ্চিহ্ন করা যেতো স্মৃতির খাতা থেকে ঐ গ্লানিময় দিনগুলির পৃষ্ঠা ! কিন্তু আজ সৰ্ব্বপ্রথম মনে হচ্চে, ভগবান মঙ্গলই করেছেন, ঐ দিনগুলির দুরপনেয় কালির দাগ একে দিয়ে এ জীবনে । هر বিস্মিত সবিতা মুখ উচু করিয়া বলিলেন, তার মানে ? বুঝতে পারলে না ? অাজ আমার লোভের অশুচিম্পর্শ থেকে আমিই তোমাকে রক্ষা করতে পারবো। নিজের জীবনের এই কলঙ্কিত আঙিনায় তোমাকে এনে দাড় করাতে পারবো না আমি। এখানে তোমার উপযুক্ত আসন নেই যে ! সবিতা অক্ষুট-স্বরে কহিলেন, সোনায় কলঙ্ক লাগে না দয়াময় ! কলঙ্কের কণামাত্র স্পর্শেই চিরমলিন হয়ে যাই আমরাই নিকৃষ্ট ধাতু। বিমলবাবু গম্ভীর-কণ্ঠে বলিলেন, আমি তা একটুও মানিনে। দেখ সবিতা, জার যার কাছে যাই হও, আমার জীবনে পরম কল্যাণরূপিণী তুমি, এ-কথা মিথ্য নয়। জীবনে ঘটেছে আমার বহু বিচিত্র নারীর সাক্ষাং, ; কিন্তু তোমার সাথে হ’লো সন্দর্শন। আমার মধ্যে যে সত্যি মানুষটা এতকাল ঘুমিয়ে ছিল, তুমি তার ঘুম ভাঙিয়ে জাগিয়ে তুললে সেদিন, তোমার স্বতঃ অভিজাত প্রকৃতির আপন স্বরূপ, সেই বিষয় স্নান অন্তু তাপদগ্ধ অথচ সহজ মৰ্য্যাদামহিম রূপের প্রথম দর্শনেই চিনতে পারলাম। রমণীবাবুর প্রমোদ-আমন্ত্রণে দেখতে গিয়েছিলাম এক, দেখলাম তার বিপরীত। তোমার জীবনের ইতিহাস আজ আমার নিজের জীবনের ভোগ জুলিয়ে দিয়েচে সবিতা। সংসারে আমারই অনুরূপ অমুস্কৃতি ঘটেচে এমন মানুষ এই প্রথম দেখলাম, সে তুমি—য নিজের প্রকৃতি হতে বিভিন্ন হয়ে অবাঞ্ছিত অন্ততর জীবন অমিছাসত্বেও —স্বেচ্ছায় যাপন করতে বাধ্য হয়েচে । নিজের স্বভাবকে চাপা দিয়ে, পারিপাখিক অবস্থার দাবী মিটিয়ে, আয়ুকে কোনও গতিকে শেষের পানে টেনে চলা বৈ তো নয়। অমুভূতির ক্ষেত্রে তুমি আর আমি এইখানে একই জায়গায় এসে দাড়িয়েছি। 象哆》