প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় তারক চমকাইয়া উঠিল, সে কি ? তুমি কোন মেয়েটির কথা বলচো ? রেণুর । তুমি কি উন্মান হয়েছে রাখাল ? তারকের কণ্ঠে তীব্র বিস্ময় ধ্বনিত হইয়া উঠিল । রাখাল তারকের প্রতি অবজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টিপাত করিয়া বলিল, উন্মাদ হলে তো ভালো হ’তো ; কিন্তু হতে পারচি কই ? - উত্তেজিত কণ্ঠে তারক বলিল, হতে আর বাকিই বা কি ? নইলে, নতুন-মার মেয়ে রেণুর সঙ্গে কখনো আমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারো ? রাখাল বলিল, ত, এতে তোমার এত বিস্মিত বা উত্তেজিত হওয়ার কি আছে ? যথেষ্ট আছে। এ নিশ্চয় তোমার ষড়যন্ত্ৰ ! তুমি নতুন-মাকেও বোধ হয় এই পরামর্শ দিয়েছে ? রাখাল নির্লিপ্ত ভাবেই বলিল, না । আমার পরামর্শের অপেক্ষা রাখেননি। ওঁরা বহুপূৰ্ব্ব থেকে রেণুর জন্য তোমাকে পাত্র নির্বাচন করে রেখেছেন। আমি জানতাম ন। এ-খবর । * তারক দৃঢ়ভাবে মাথা নাড়িয়া বলিল, হতেই পারে না—মিথ্যে কথা । রাখাল স্থির-কণ্ঠে বলিল, দেখ তারক, তুমি বেশ জানো, আমি মিথ্যে কথা বলিনে । তারকের চড়া গলা এবার নিম্নগ্রামে নামিয়া আসিল, বলিল, তুমি কেন রেণুকে বিবাহ করো না । রাখাল উত্তর দিল, আমি যোগ্য পাত্র নই। রেণুর অভিভাবকের এ-কথা জানেন। তারক সবিদ্রপ-কণ্ঠে বলিল, আর হতভাগ্য আমিই বুঝি হলাম সব-রকমে তাদের কন্যার সুযোগ্য পাত্র ? তুমি পাশ করা বিদ্বান ছেলে— বুদ্ধিমান, স্বাস্থ্যবান, চরিত্রবান। স্থ্য, অনেকগুলি বাণ ছুড়ে মারলে, কিন্তু এটা কি বিবেচনায় এলো না, যে, ঐ মেয়েকে আমি আমার পিতৃবংশের কুলবধুরূপে গ্রহণ করতে পারিনে। গরীব হতে পারি, কিন্তু মৰ্য্যাদাহীন এখনও হইনি। রাখাল ক্ৰোধস্তম্ভিত কণ্ঠে স্থাকিল, তারক— সত্য বলতে ভয় করে কিসের জন্য ? তুমি নিজে ঐ মেয়েকে বিয়ে করে আনতে পারো— তীক্ষদৃষ্টতে তারকের পানে তাকাইয়া রাখাল বলিল, সেই মেয়েরই মায়ের আশ্রয়ে থেকে, তারই সাহায্য নিয়ে, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বুঝি তোমার বংশমর্য্যাদা ও কৌলীষ্মের গৌরব উজ্জল হয়ে উঠেচে ? তারক নিজের মকুন্যত্বকে দলিত করে যদি উন্নতির রাস্ত তৈরী করে, তোমাকে অবনতির অতলেই ঠেলে নিয়ে যাবে জেনে । ২৪৩