প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বলে, ম, আপনার সেবার ভার নিতে আপনার কাছে এলাম, কিন্তু আপনিই যে শেষে আমার সেবা হাতে তুলে নিলেন। আমি সত্যই এ সইতে পারিনে। আপনার ঘাড়ে পরিশ্রমের ভার চাপিয়ে স্কুলে যেতে আমার বাধে। সবিতা হাসিয়া বলেন, মা, এই কাজেই আমার বেশি তৃপ্তি। স্কুল তোমার কোনমতেই ছাড়া হবে না, আমি বেঁচে থাকতে ! জীবনে তোমার অবলম্বন তো চাই। শিক্ষা না পেলে আত্মনির্ভরতার শক্তি পাবে কোথা থেকে ? একদিন হয়তো তোমাকে একলা বেঁচে থাকতে হবে এই পৃথিবীতে। নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাড়াতে না শিখলে দুঃখের অবধি থাকে না মেয়েদের, এ তো তোমার অঙ্গানা নেই সারদা ! সেদিন রাত্রে তারক থাইতে বসিলে, সবিতা নিত্যকার মতো খাওয়ার তদারক করিতে সামনে বসিয়া ছিলেন, সবিতা একসময় বলিলেন, তুমি নাকি বিয়ে করচে বাবা ? তারক চমকিত হইয়া প্রশ্ন করিল, কার কাছে শুনলেন ? সবিতা শাস্ত হাসিয়া বলিলেন, সিঙ্গাপুরের চিঠি এসেচে আজ । সারদা মিষ্টান্ন পরিবেশন করিতেছিল। কহিল, আমাদের বাড়ির বিয়ের খবর আমাদেরই কাছে পৌছায় তারকবাবু, সমুদ্র পারের ডাক মারফত । সারদার বিদ্রুপে হাড়ে হাড়ে চটিয়া উঠিলেও তারক তাহা প্রকাশ করিতে পারিল না। সবিতার পানে তাকাইয়া কৈফিয়তের স্বরে কহিল, আমার সিনিয়র উকিল শিবশঙ্করবাবু পীড়াপীড়ি করে ধরেচেন তার ভাইঝিকে বিয়ে করার জন্তে । আমি এখনও মতামত জানাইনি। এ বিয়ে হবে কি না তার কিছুই ঠিক নেই। কাউকেই এখনও বলিনি। কেবলমাত্র বিমলবাবুকে লিখেছিলাম, পরামর্শ (5'8" | সবিতা বলিলেন, সম্বন্ধ তো তোমার পক্ষে ভালো বলেই মনে হচ্চে বাবা! তুমি আত্মীয়-বন্ধুহীন, এ রকম মুকবি শ্বশুর পাওয়া ভাগ্যের কথা। পাত্রী যদি তোমার অপছন্দ না হয়, শুভকৰ্ম্মে দেরী না করাই ভালো । তারক সঙ্কুচিত হইয়া বলিল, কিন্তু এ বিয়েতে নানা বাধা আছে মা। আমি মনে করেচি, শিববাবুকে জবাব দেবো, এ বিয়ে সম্ভব হবে না। সবিতা বলিলেন, বাধা কিসের –আমাকে জানাতে তোমার সস্কোচ আছে বাবা ? তারক ব্যস্ত হইয়া কহিল, না না, আপনার কাছে বলতে আবার বাধা কি ? আপনি আমার মা। আমি জানাবে-জানাবো ভাবছিলাম, আজই আপনাকে নিজেই এ সকল কথা বলতাম । ፵፱ካ”