প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/২৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S এই কাহিনী যে সময়ের, তখনও ব্রহ্মদেশ ইংরাজের অধীনে আসে নাই । তখনও তাহার নিজের রাজরাণী ছিল, পাত্ৰ-মিত্র ছিল, সৈন্ত-সামন্ত ছিল ; তখন পর্যন্ত তাহারা নিজেদের দেশ নিজেরাই শাসন করিত। মান্দালে রাজধানী, কিন্তু রাজবংশের অনেকেই দেশের বিভিন্ন সহরে গিয়া বসবাস করিতেন । এমনি বোধ হয় একজন কেহ বহুকাল পূৰ্ব্বে পেশুর ক্রোশ-পাঁচেক দক্ষিণে ইমেদিন গ্রামে আসিয়া বাস করিয়াছিলেন। র্তাদের প্রকাগু অট্টালিকা, প্রকাও বাগান, বিস্তর টাকা-কড়ি, মন্ত জমিদারী। এই সকলের মালিক যিনি, তার একদিন যখন পরকালের ডাক পড়িল, তখন বন্ধুকে ডাকিয়া কহিলেন, বা-কো, ইচ্ছে ছিল তোমার ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিবাহ দিয়া যাইব । কিন্তু সে সময় হইল না। মা-শোয়ে রহিল, তাহাকে দেখিও । ইহার বেশি বলার তিনি প্রয়োজন দেখিলেন না । বা-কে তার ছেলেবেলার বন্ধু। একদিন তাহারও অনেক টাকার সম্পত্তি ছিল, শুধু ফয়ার মন্দির গড়াইয়া আর ভিক্ষু খাওয়াইয়া আজ কেবল সে সৰ্ব্বস্বাস্ত নয়, ঋণগ্রস্ত । তথাপি এই লোকটিকে তাহার যথাসৰ্ব্বশ্বের সঙ্গে একমাত্র কন্যাকে নিৰ্ভয়ে সঁপিয়া দিতে এই মুম্বন্ধুর লেশমাত্র বাধিল না। বন্ধুকে চিনিয়া লইবার এতবড় সুযোগই তিনি এ-জীবনে পাইয়াছিলেন। কিন্তু এ দায়িত্ব বা-কোকে অধিক দিন বহন করিতে হইল না । তারও ও-পারের শমন আসিয়া পৌছিল এবং সেই মহামান্ত পরওয়ানা মাথায় করিয়া বৃদ্ধ বৎসর না ঘুরিতেই যেখানের ভার সেখানেই ফেলিয়া রাখিয়া অজানার দিকে পাড়ি দিলেন। এই ধৰ্ম্মপ্রাণ দরিদ্র লোকটিকে গ্রামের লোক যত ভালবাসিত, শ্রদ্ধা-ভক্তি করিত তেমনি প্রচণ্ড আগ্রহে তাহারা ইহার মৃত্যু-উৎসব শুরু করিয়া দিল । ব-কোর মৃতদেহ মাল্য-চন্দনে সজ্জিত হইয়া পালঙ্কে শয়ান রছিল এবং নীচে খেলা-ধূলা, নৃত্য-গীত ও আহার-বিহারের স্রোত রাত্ৰি-দিন অবিরাম বহিতে লাগিল। মনে হইল ইহার বুঝি আর শেষ হইবে না। t পিতৃ-শোকের এই উৎকট আনন্দ হইতে ক্ষণকালের জন্ত কোনমতে পলাইঞ্চ বখিন একটা নির্জন গাছের তলায় বসিয়া কাদিতেছিল, হঠাৎ চমকাইয়া ফিরিঙ্গ দেখিল, ३१é