পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৩২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


, কবির জীবনের সপ্ততি বৎসর বয়স পূর্ণ হোলো। বিধাতার এই আশীৰ্ব্বাদ শুধু জামাদিগকে নয়, সমস্ত মানবজাতিকে ধন্ত করেচে। সৌভাগ্যের এই পতিকে আনন্দোৎসবে মধুর ও উজ্জল করে আমরা উত্তরকালের জন্য রেখে যেতে চাই এবং সেইসঙ্গে নিজেদেরও এই পরিচয়টুকু তাদের দিয়ে যাবে যে, কবির শুধু কাৰেই নয়, তাকে জামরা চোখে দেখেচি, তার কথা কানে শুনেচি, তার আসনের চারিধারে ঘিরে বসবার ভাগ্য আমাদের ঘটেচে। মনে হয়, সেদিন আমাদের উদ্দেশ্রেও তারা নমস্কার জানাবে। সেই অনুষ্ঠানের একটি অঙ্গ আজকের এই সাহিত্য-সভা। সাহিত্যের সম্মেলন আরও অনেক বসবে, আয়োজন-প্রয়োজনে তাদের গৌরবও কম হবে না, কিন্তু আজকের দিনের অসামান্তত তারা পাবে না। এ তো সচরাচরের নয়, এ বিশেষ একদিনের, তাই এর শ্রেণী স্বতন্ত্র। সাহিত্যের আসরে সভা-নায়কের কাজ আরও করবার ডাক ইতিপূৰ্ব্বে জামার এসেচে, আহ্বান উপেক্ষা করতে পারিনি, নিজের অযোগ্যতা স্মরণ করেও সসঙ্কোচে কর্তব্য সমাপন করে এসেচি, কিন্তু এই সভায় শুধু সঙ্কোচ নয়, আজ লজ্জা বোধ করচি। আমি নিঃসংশয় যে, এ গৌরব আমার প্রাপ্য নয়, এ তার বহনে আমি অক্ষম। এ আমার প্রচলিত বিনয়বাক্য নয়, এ আমার অকপট সত্য কথা। তথাপি আমন্ত্ৰণ অস্বীকার করিনি। কেন যে করিনি আমি সেইটুকুই গুৰু ব্যক্ত করব । আমি জানি বিতর্কের স্থান এ নয়, সাহিত্যের ভালো-মন্দ বিচার, এর জাতি-কুল নির্ণয়ের সমস্ত নিয়ে এ পরিষৎ আহত হয়নি—তার প্রয়োজন যথাস্থানে—জামরা সমবেত হয়েচি বৃদ্ধ কবিকে শ্রদ্ধার অর্ঘ্য নিবেদন করে দিতে। তাকে সহজভাবে বলতে-কবি, তুমি অনেক দিয়েচে, এই দীর্ঘকালে তোমার কাছে আমরা অনেক পেয়েচি। সুন্দর, সরল, সৰ্ব্বসিদ্ধিদায়িনী ভাষা দিয়েচো তুমি, তুমি দিয়েচো বিচিত্র ছন্দোবদ্ধ কাব্য, দিয়েচো অনুরূপ সাহিত্য, দিয়েচো জগতের কাছে বাঙলার ভাষা ও তাৰ-সম্পদের শ্রেষ্ঠ পরিচয়, আর দিয়েচে যা সকলের বড়—আমাদের মনকে ভূমি দিয়েচো বড় করে । তোমার স্বাক্টর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার আমার সাধ্যাতীত—এ জামার ধর্থবিরুদ্ধ। প্রজ্ঞাবান যারা যথাকালে তারা এর আলোচনা করবেন ; কিন্তু তোমার কাছে আমি নিজে কি পেয়েচি, সেই কথাটাই ছোট করে জানাবো বলেই এ নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলাম । wo ه 3-۹لا