প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ ' নতুন মা রাখালের মুখের প্রতি অলক্ষ্যে একটুখানি চাহিয়া মুখ ফিরাইলেন। তাহার হাসির ভাবটা ব্ৰজবাবুর চোখ এড়াইল না, বলিলেন, রাজু, কথাটা তোমার ভালো হয়নি। যাই হোক, সম্পর্কে তিনি নতুন-বোঁয়েরও ভাই হন ; ভাইয়ের নিন্দে বোনেরা কখনো সইতে পারে না । উনি বোধ করি, মনে মনে রাগ করলেন। রাথলি হাসিয়া ফেলিল। ব্ৰজবাবুও হাসিলেন, বলিলেন, অসঙ্গত নয়, রাগ করারই কথা কি-না । তারকের সহিত এখনো তাহার পরিচয় ঘটে নাই ; লোভটা সে সংবরণ করিতে পারিল না, বলিল, আজ বার হবার সময়ে আপনি দুর্গা নাম উচ্চারণ করেননি নিশ্চয় ? ব্ৰজবাবু প্রশ্নের তাৎপৰ্য্য বুঝিতে পারিলেন না, বলিলেন, কই না! অভ্যাস মতে অামি গোবিন্দ স্মরণ করি, আজও হয়তো তাকেই ডেকে থাকব। তারক কহিল, তাতেই যাত্রা সফল হয়েচে, ও-নামটা করলে শুধু হাতে ফিরতে হোতে । ব্ৰজবাৰু তথাপি তাৎপর্ঘ্য বুঝিতে পারিলেন না, চাহিয়া রছিলেন। রাখাল তারকের পরিচয় দিয়া কল্যকার ঘটনা বিবৃতি করিয়া কহিল, ওর মতে দুর্গ নামে কাৰ্য্য পণ্ড হয়। কালকে আপনার দেখা না পেয়ে আমাদের বিফল হয়ে ফিরতে হয়েছিল তার কারণ বার হবার সময় আমি দুর্গা নাম উচ্চারণ করেছিলাম। হয়তো এ-রকম দুর্ভোগ ওর কপালে পূর্কেও ঘটে থাকবে, তাই ও নামটার ওপরেই তারক চটে আছে । শুনিয়া ব্ৰজবাবু প্রথমটা হাসিলেন, পরে হঠাৎ ছদ্মগাম্ভীর্ষ্যে মুখখানা অতিশয় ভারি করিয়া বলিলেন, হয় হে রাখাল-রাজ, হয়—ওটা মিথ্যে নয়। সংসারে নাম ও দ্রব্যের মহিমা কেউ আজও সঠিক জানে না। আমিও একজন রীতিমত ভুক্তভোগী। ফুটকড়াই’ নাম করলে আর আমার রক্ষে নেই। - জিজ্ঞাস্ক-মুখে সকলেই চোখ তুলিয়া চাহিল, রাখাল সহাস্তে জিজ্ঞাসা করিল, কিসে ? ব্ৰজবাবু কহিলেন, তবে ঘটনাটা বলি শোনো। ব্রজবিহারী বলে ছেলেবেলায় আমার ডাক-নাম ছিল বলাই। ভয়ানক ফুট-কড়াই খেতে ভালোবাসতাম। ভূগতামও তেমনি। আমার এক দূর-সম্পর্কের ঠাকুমা সাবধান করে বলতেন— বলাই, কলাই খেয়ে না— জানলা ভেঙে বোঁ পালাবে দেখতে পাবে না। ভেবে দেখ দেখি, ছেলেবেলায় ফুট-বড়াই খাওয়ায় বুড়ে-বয়সে আমার কি সৰ্ব্বনাশ হোলো ! এ কি দ্রব্যের দোষ-গুণের একটা বড় প্রমাণ নয় ? যেমন দ্রব্যের, তেমনি নামেরও আছে বৈকি । २8