প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৩৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সামতাবেড়, পানিক্সোস পোস্ট জেলা হাবড়া পরম কল্যাণীয়াষু, রাধু, তোমার বইখানি (‘লীলাকমল’ কবিতা পুস্তক) পাবার পর থেকে প্রায়ই ভাবতাম, কবিতা নিয়ে কথা কইবার অধিকার ভগবান যদিবা নাই দিয়ে থাকেন, অন্ততঃ বইখানি পেয়েছি এবং আগাগোডা পড়েছি এ খবরটাও তো দিতে পারি। তাই কেন না দিই ? এমনি ভাবি আর দিন যায়। অবশেষে শিলঙ ( এই সময় রাধারাণী দেবী শিসঙ-এ ছিলেন ) থেকে এলো চিঠি—এলো নিমন্ত্রণ। মনে মনে লজ্জার অবধি রইল না—স্থির হ’ল এবার আর দেরি নয়—জবাব একটা দেবই দেব। কিন্তু আবার ভাবি, আর দিন যায়—এমনি করে ভাবতে ভাবতে আজ দুপুর রাত্রে আরাম-কেদার ছেড়ে অকস্মাং উঠে বসেছি এবং কাগজ কলম খুঁজে বার করে নিয়ে নিদারুণ প্রতিজ্ঞ করেচি ওপরে যাবার আগে এ চিঠি শেষ কোরবই কোরব। কাল সকালেই যেন ডাকে দিতে পারি। -. কিন্তু জানোই ত ভাই বিনয় নয়, সত্যিই কবিতার আমি কিছুই জানিনে । তাই কবিতা যে কেউ লেখে তার পানেই আমি অবাক হয়ে চেয়ে থাকি । নিজে না পারি দু'ছত্র মেলাতে, না পারি ভালো ভালে কথা খুজে বার করতে। একবার বহু চেষ্টার ‘ছায়’-এর সঙ্গে 'জলাশয় মিলিয়ে কবিতা লিখেছিলাম, কিন্তু অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বললেন, ও হয়নি। হয়নি ত বটেই, কিন্তু হয় যে কি কোরে সেও ত বুদ্ধির অতীত, সুতরাং আমার মত সুধী ব্যক্তি যত্ন করে এ বই যদি পড়েও থাকেন তাতে তোমাদের মত কবিদের আনন্দ দূরে থাৰু সাম্বনাটাই বা কি ? বুড়ি (নিরুপমা দেবী ) ছেলেবেলায় কবিতা লিখতে, মম নয়, সে এটা বোঝে ; তাকে যদি পাঠাতে বোধ করিবা- এমনতর অযোগ্যের হাতে তুলে দেওয়ার আক্ষেপ থেকে রক্ষা পেতে । একটা ঘটনা মনে পড়ে । জলধর দাদার ( জলধর সেন ) ‘অভাগী' বেরিয়েচে ; আমাদের বাড়ির ইনি (শরৎচন্দ্রের স্ত্রী হিরন্ময়ী দেবী ) পড়েন আর কাদেন । চোখমুখ ফুলে উঠলো, আমাকে কাছে পেয়ে ধিক্কার দিয়ে বললেন, কি যে ছাইপাশ তুমি লেখে, এমনি একখানিও যদি লিখতে পারতে। পারিনে তা মেনে জিজ্ঞাসা করলেম, ব্যাপারটা কি ওতে ? বললেন ব্যাপার! এই স্থাখো সতীত্বের তেজ ! দেখা গেল—অভাগী তখন কাশীতে। সেখানে দারোগা, কনস্টেবল, বাড়িওয়ালা,

  • 霉物