প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় পরিহাসের অবতারণা যে কত অশোভন ও অসঙ্গত এ-কথা ব্ৰজবাবুর মনে পড়িল, এবং অপরিচিত পুরুষদের সম্মুখে ঐ লজ্জাকুষ্ঠিত নিঃশব্দ নারীর উদ্দেশে অবক্ষিপ্ত ফুটকড়াইয়ের রসিকতা যেন এখন তাহার নিজেরই কান মলিয়া দিল। মনে হইল, ছি ছি, করিয়াছি কি ! পান আনার ছল করিয়া রাখাল তাহাদের একলা রাখিয়া গেছে। কিন্তু সময় কাটিতেছে নীরবে। হয়তো তাহারা ফিরিল বলিয়। এমন সময় কথা কহিলেন নতুন-বোঁ প্ৰথমে । মুখ তুলিয়া বলিলেন, মেজকর্তী, আমাকে তুমি মাজনা কর। ব্ৰজবাবু বলিলেন, মাজ্জন করা সম্ভব বলে তুমি মনে করো ? করি কেবল তুমি বলেই। সংসারে কেউ হয়তে পারে না, কিন্তু তুমি পারে। র্তাহার চোখ দিয়া এতক্ষণে জল গড়াইয়া পড়িল । ব্ৰজবাবু ক্ষণকাল নীরবে থাকিয়া কহিলেন, নতুন-বোঁ, মাঙ্গ না করতে তুমি পারতে ? - নতুন-বোঁ আঁচলে চোখ মুছিয়া বলিলেন, আমরা তো পারিই মেজকর্ত। পৃথিবীতে এমন কোন মেয়ে আছে যাকে স্বামীর এ অপরাধ ক্ষমা করতে হয় না ? কিন্তু আমি সে তুলনা দিইনে, আমার ভাগ্যে এমন স্বামী পেয়েছিলাম যিনি দেহে-মনে নিষ্পাপ, যিনি সব সন্দেহের ওপরে। আমি কি করে তোমাকে এর জবাব দেবো ? কিন্তু আমার মাৰ্জ্জনা নিয়ে তুমি করবে কি ? যতদিন বাচবো মাথায় তুলে রাখবো। আমাকে কি তুমি ভুলে গেছে মেজকর্তা ? তোমার মনে কি হয় বলে তো নতুন-বোঁ ? এ প্রশ্নের জবাব আসিল না। শুধু স্তন্ধ নত-মুখে উভয়েই বসিয়া রহিলেন । খানিক পরে ব্রজবাবু বলিলেন, মাজ না চেয়ে না নতুন-বোঁ, সে আমি পারবো না। যতদিন বাঁচবো তোমার ওপরে এ অভিমান আমার যাবে না। তবু পাছে স্বামীর অভিশাপে তোমার কষ্ট বাড়ে এই ভয়ে কোনদিন তোমাকে অভিশাপ দিইনি। কিন্তু এমন অদ্ভুত কথা তুমি বিশ্বাস করতে পারে নতুন-বোঁ ? নতুন-বোঁ মুখ না তুলিয়াই বলিল, পারি। ব্ৰজবাবু বলিলেন, তা হলে আর আমি দুঃখ করবো না। সেদিন আমাকে সবাই বললে অন্ধ, বললে নিৰ্ব্বোধ, বললে দেখিয়ে দিলেও যে দেখতে পায় না, প্রমাণ করে দিলেও যে বিশ্বাস করে না, তার দুর্দশা এমন হবে না তো হবে কার! কিন্তু দুৰ্দ্দশা হয়েচে বলেই কি নিজেকে অন্ধ বলে মেনে নিতে হবে নতুন-বোঁ ? বলতে হবে, যা করেচি আমি সব ভুল? জানি, ভাই আমাকে ঠকিয়েচে, আমাকে ঠকিয়েচে বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, দাস-দাসী, কর্মচারী—ঠকিয়েচে অনেকেই। কিন্তু সব যখন যেতে বসেছিল, সেই দুর্দিনে তোমাকে বিবাহ করে আমিই তো ঘরে আনি ! তুমি এসে ኟፃ