প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বোধ হয় কোথাও লুকিয়ে আছেন, শীঘ্রই ফিরে আসবেন, কিংবা হয়তো এসেছেন, আমরা গিয়েই দেখতে পাবো । না, তিনি আসেননি। না এসে থাকলেও আসবেন নিশ্চয়ই । সারদা বলিল, না, তিনি আসবেন না। আসবেন না? তোমাকে একলা ফেলে রেখে চিরকালের মতো পালিয়ে যাবেন— এ কি কখনো হতে পারে ? নিশ্চয় আসবেন। না । না ? তুমি জানলে কি করে ? আমি জানি । তাহার কণ্ঠস্বরের প্রগাঢ়তায় তর্ক করিবার কিছু রহিল না। রাখাল স্তব্ধভাবে কিছুক্ষণ বসিয়া থাকিয়া বলিল, তা হলে হয় তোমার শশুরবাড়ি, নয় তোমার বাপের বাড়িতে চলো। পাঠাবার ব্যবস্থা করে দেবো । মেয়েটি নিঃশবো নতমুখে বসিয়া রহিল, উত্তর দিল না। রাখাল একমুহূৰ্ত্ত অপেক্ষা করিয়া বলিল, কোথায় যাবে, শ্বশুরবাড়ি। মেয়েটি ঘাড় নাড়িয়া জানাইল, না। তবে কি বাপের বাড়ি যেতে চাও ? সে তেমনি মাথা নাড়িয়া জানাইল, না। রাখাল অধীর হইয়া উঠিল—এ তো বড় মুস্কিল ! এখানকার বাসাতেও যাবে না, শ্বশুরবাড়িতেও যাবে না, বাপের ঘরেও যেতে চাও ন!—কিন্তু চিরকাল হাসপাতালে থাকবার তো ব্যবস্থা নেই সারদা । কোথাও যেতে হবে তো ? প্রশ্নটা শেষ করিয়া সে দেখিতে পাইল মেয়েটির হাটুর কাছে অনেকখানি কাপড় চোখের জলে ভিজিয়া গেছে এবং এইজন্যই সে কথা না কহিয়া শুধু মাথা নাড়িয়াই এতক্ষণ প্রশ্নের উত্তর দিতেছিল। ও কি সারদা, কাদচো কেন, আমি অন্যায় তো কিছু বলিনি। শুনিবামাত্র সে তাড়াতাড়ি চোখ মুছিয়া ফেলিল, কিন্তু তখনি কথা কহিতে পারিল না। রুদ্ধ কণ্ঠ পরিষ্কার করিতে সময় লাগিল, কহিল, আমি ভাবতে আর পারিনে— আমাকে মরতেও কেউ দিলে না। রাখাল মনে মনে অসহিষ্ণু হইয়া উঠিতেছিল, কিন্তু শেষ কথাটায় বিরক্ত হইল— এ অভিযোগটা যে তাহাকেই। তথাপি কণ্ঠস্বর পূর্বের মতই সংযত রাখিয়া বলিল, মাচুষে একবারই বাধা দিতে পারে সারদা, বার বার পারে না। যে মরতেই চায় তাকে কিছুতেই বাচিয়ে রাখা যায় না। আর ভাবতেই যদি চাও, তারও অনেক 8 s