প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ এ প্রশ্নের জবাব কি ! সবিতা ঘাড় হেঁট করিয়া রছিলেন। ব্ৰজবাবু বলিলেন, আমি বলি এ সবের প্রয়োজন নেই নতুন-বোঁ । আমার জন্তে মনের মধ্যে আর তুমি অনুশোচনা রেখে না, যা কপালে লেখা ছিল ঘটেচে—গোবিদ মীমাংসা তার একরকম করে দিয়েচে,—আশীব্বাদ করি তোমরা সুখী হও, আমাকে অবিশ্বাস কোরো না নতুন-বোঁ, আমি সত্য কথাই বলচি । সবিতা তেমনি অধোমুখে নিঃশব্দে দাড়াইয়া রহিলেন। রাখালের মনে পড়িল আর বিলম্ব করা সঙ্গত নয়, অবিলম্বে গাড়ি ডাকিয়া তোরঙ্গটা বোঝাই দিতে হইবে এবং এই কথাটাই বলিতে বলিতে সে ব্যস্ত-সমস্তে বাহির হইয়া গেল। সবিতা মুখ তুলিয়া চাহিলেন, তাহার দুই চোখে অশ্রীর ধারা বহিতেছিল। ব্ৰজবাবু একটুখানি সরিয়া দাড়াইলেন, বলিলেন, তোমার রেণুকে একবার দেখতে চাও কি নতুন-বোঁ ? না মেজকর্তা, সে প্রার্থনা আমি করিনে । তবে কাদচে কেন ? কি আমার কাছে তুমি চাও? যা চাইবো দেবে বলে ? ব্ৰজবাবু উত্তর দিতে পারিলেন না, শুধু তাহার মুখের পানে চাহিয়া দাড়াইয় রহিলেন । সবিত কহিলেন, কতকাল বঁাচবো মেজকৰ্ত্তা, আমি কি নিয়ে থাকবো ? ব্ৰজবাবু এ জিজ্ঞাসারও উত্তর দিতে পারিলেন না, ভাবিতে লাগিলেন। এমনি সময়ে বাহিরে রাখালের শব্দ-সাড়া পাওয়া গেল। সবিতা তাড়াতাড়ি আঁচলে চোখ মুছিয়া ফেলিলেন এবং পরক্ষণেই দ্বার ঠেলিয়া সে ঘরে প্রবেশ করিল। কহিল, নতুনম, আপনার ড্রাইভার জিজ্ঞাসা করছিল, আর দেরি কতো ? চলুন না ভারি বাক্সটা আপনার গাড়িতে তুলে দিয়ে আসি ? নতুন-মা বলিলেন, রাজু আমাকে বিদায় করতে পারলেই বাচে, আমি ওর আপদ বালাই। রাখাল হাত জোড় করিয়া জবাব দিল, মায়ের মুখে ও নালিশ অচল নতুন-মা। এই রইলো আপনার রাজুর দিল্লী যাওয়া—ছেলেবেলার মতো অার একবার আজ মার কোলেই আশ্রয় নিলাম। এখান থেকে আর যেতে দিচ্চিনে মা—যত কষ্টই ছেলের ঘরে হোক । সবিতা লজ্জায় যেন মরিয়া গেলেন। রাখাল বলিয়া ফেলিয়াই নিজের ভুল বুঝিতে পারিয়াছিল, কিন্তু ভালোমানুষ ব্ৰজবাবু তাহা লক্ষ্যও করিলেন না। বরঞ্চ বলিলেন, বেলা গেছে নতুন-ৰৌ, বাক্সটা তোমার গাড়িতে রাজু তুলে দিয়ে আম্বক, 徽8