প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ গেছে—গোবিন্দর পূজাটি সেরে নিন, আমি ততক্ষণ নতুন করে ভাতটা চড়িয়ে দিই— ফুটে উঠতে দশ মিনিটের বেশী লাগবে না। রেণু কই ? বলিয়া সে পাশের ঘরে ঢুকিয়া দেখিল সে নিজের বিছানায় শুইয়া। রাজুদাকে দেখিয়া তাহার দুই চোখ জলে ভরিয়া গেল। রাখাল কোনমতে নিজেরটা সামলাইয়া লইয়া বলিল, কাম্রাট কিসের ? জর কি কারো হয় না? ও দু'দিনে সেরে যাবে, আর আমি ত মরিনি রেণু, ভাবনার কি আছে ? উঠে বোসো। মুখ ধোয়া, কাপড়ছাড়া হয়েছে তো ? রেণু মাথা নাড়িতেই রাখাল চেচাইয়া ডাকিল, ফটিকের মা, তোমার দিদিমণিকে সাগু দিয়ে যাও—বডড দেরি হয়ে গেছে। সে আসিলে বলিল, ভাতটা ধরে গেছে ফটিকের মা, ওতে চলবে না। তুমি, আমি, মধু আর কাকাবাবু-চারজনের মতো চাল ধুয়ে ফেলো, আমি নীচে থেকে চট করে স্নানটা সেরে আসি। কাচা আনাজ কিছু আছে তো ? আছে । বেশ, তাও দুটো কুটে দাও দিকি, একটা চচ্চড়ি রে’ধে নিই—আমি আবার এক তরকারি দিয়ে ভাত খেতে পারিনে । রেলিঙের উপর কাচা কাপড় শুকাইতেছিল, রাখাল টানিয়া লইয়া নীচে চলিল, বলিতে বলিতে গেল, কাকাবাবু, দেরি করবেন না, শীগগির উঠুন। রেণু, নেয়ে এসে যেন দেখতে পাই তোমার খাওয়া হয়ে গেছে। মধু এসে পড়লে যে হয়— বিষন্ন নীরব গৃহের মাঝে হঠাৎ কোথা হইতে যেন একটা চেঁচামেচির ঝড় বহিয়া গেল । স্বানের ঘরে ঢুকিয়া দ্বার রুদ্ধ করিয়া রাখাল ভিজ মেজেয় পড়িয়া মিনিট দুই-তিন হাউ হাউ করিয়া কান্না জুড়িয়া দিল—ছেলেবেলায়, অকস্মাৎ যেদিন বিস্তুচিকায় তাহার বাপ মরিয়াছিল ঠিক সেদিনের মতো । তার পরে উঠিয়া বসিল, ঘটি-কয়েক জল মাথায় ঢালিয়া কাপড় ছাড়িয়া বাহিরে আসিল । একেবারে সহজ মাতুব—কে বলিবে ঘরে কপাট দিয়া এইমাত্র সে বালকের মতো মাটিতে পড়িয়া কি কাগুই করিতেছিল। - রাধা-বাড়ায় রাখাল অপটু নয়। নিজের জন্য এ কাজ তাহাকে নিত্য করিতে হয়। সে অল্পক্ষণেই সমস্ত সরিয়া ফেলিল। তাহার তাড়ায় ঠাকুরের পূজা, ভোগ প্রভৃতি সমাধা হইতেও আজ অযথা বিলম্ব ঘটল না। রাখাল পরিবেশন করিয়া সকলকে খাওয়াইয়া, নিজে খাইয়। নীচে হইতে গা ধুইয়া কাপড় ছাড়িয়া, আবার যখন উপরে আসিল তখন বেলা তিনটা বাজিয়াছে। রেণু অদূরে বসিয়া সমস্ত দেখিতেছিল, শেষ হইতে বলি, রাজুদ্রা, তুমি আমাদেরও হারিয়েছে। তোমার যে বেী হবে সে ভাগ্যবতী ; কিন্তু বিয়ে কি তুমি করবে না ? & e