প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় রাখাল হাসিয়া বলিল, কি করবো ভাই, অতবড় ভাগ্যবতীর দেখা মিলবে তবে তো ? না, সে হবে না। বাবাকে ধরে এবার আমি নিশ্চয় তোমার একটি বিয়ে দিয়ে দেবো । তাই দিও, আগে সেরে ওঠে। বিনোদ ডাক্তার আজ কি বললেন ? জরটা ছাড়চে না কেন ? - ফটিকের মা দাড়াইয়াছিল, বলিল, ডাক্তারবাবু আজ তো আসেননি, এসেছিলেন পরশু। সেই এক ওষুধই চলচে । শুনিয়া রাখাল স্তব্ধ হইয়া রহিল। তাহার শঙ্কিত মুখের প্রতি চাহিয়া রেণু লজ্জা পাইয়া কহিল, রোজ ওষুধ বদলানো বুঝি ভালো! আর মিছামিছি ডাক্তারকে টাকা দিতে থাকলেই বুঝি অমুখ সেরে যায় ফটিকের মা ? আমি এতেই ভালো হয়ে যাবে। তোমরা দেখে নিও । রাখাল কথা কহিল না, বুঝিল দুর্দশায় পড়িয়া সামান্ত গুটিকয়েক টাকাও আর সে পিতার খরচ করাইতে চাহে না । তুমি কি চলে যাচ্ছে রাজুল ? আজ যাই ভাই, কাল সকালেই আবার আসবে। নিশ্চয় আসবে তো ? নিশ্চয় আসবো। আমি না আসা পর্য্যন্ত কাকাবাবুকে উকুনের কাছেও যেতে দিও না রেণু। শুনিয়া রেণুকত যেন কুষ্ঠিত হইয়া উঠিল, বলিল, কাল যদি আমার জর না থাকে আমি রাধবো রাজুদা ? কিছুতেই না। ঝিকে সাবধান করিয়া দিয়া কহিল, আমি না এলে কাউকে কিছু করতে দিও না ফটিকের মা ! এই বলিয়া সে বাহির হইয়া গেল । * বিনোদ ডাক্তার পাড়ার লোক, একটু দূরে বাড়ি—নীচের তলায় ডিসপেনসারি, সেখানে তাহার দেখা মিলিল ; রাখাল জিজ্ঞাসা করিল, রেণুর জরটা কি রকম ডাক্তারবাৰু? আজও ছাড়েনি কেন ? বিনোদবাবু বলিলেন, আশা করি সহজ। কিন্তু আজও যখন—তখন দিন-দুই না গেলে ঠিক বলা যায় না রাখাল । ডাক্তার এই পরিবারের বহুদিনের চিকিৎসক, সকলকেই জানেন । ইহার পর ব্ৰজবাবুর আকস্মিক দুর্ভাগ্য লইয়া তিনি দুঃখ প্রকাশ করিলেন, বিস্ময় প্রকাশ করিলেন, শেষে বলিলেন, তুমি যখন এসে পড়েচো রাখাল, তখন ভাবনা নেই। আমি সকালেই যাবো । te?