প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কি না। বলিলেন, আচ্ছ আজ তা হলে উঠি—আপনি বিশ্রাম করুন। অন্ধস্থ শরীরের ওপর হয়তো অত্যাচার করে গেলুম—তবু, যাবার পূর্বে আমার অনুরোধই রইল—আমি প্রতি মাসে আপনাকে প্রিপেড টেলিগ্রাম করবে—এই প্রার্থনা জানিয়ে —দেখি কতবার না বলে তার জবাব দিতে পারেন। এই বলিয়া তিনি একটু হাসিলেন, বলিলেন—নমস্কার—নমস্কার রমণীবাবু আমি চললুম। তিনি বাহির হইয়া গেলেন, সঙ্গে সঙ্গে রমণীবাবুও নীচে নামিয়া গেলেন। রমণীবাবুর বন্ধু বলিয়া এবং অশিক্ষিত ব্যবসায়ী মনে করিয়া এই লোকটির সম্বন্ধে যে ধারণা সবিতার জন্সিয়াছিল, চলিয়া গেলে মনে হইল হয়তো তাহা সত্য নয় । সারদা বলিল, মা, খাবেন না কিছু ? नी । এক গেলাস জল আর একটা পান দিয়ে যেতে বলবো ? না, দরকার নেই। আলোটা নিবিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে যাবো ? তাই যাও সারদা, তোমার রাত হয়ে যাচ্ছে। তথাপি উঠি উঠি করিয়াও তাহার দেরি হইতেছিল, রমণীবাবু ফিরিয়া আসিয়া দাড়াইলেন, নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, যাক বাচা গেল, আজকের মতো কোনরকমে মান রক্ষেট হোলো । ভদ্রলোক খাসা মানুষ, অতবড় দরের লোক তা দেমাক অহঙ্কার নেই, তোমার জন্যে তো ভাবনা, একশোবার অনুরোধ করে গেলো কাল সকালে যেন একটা খবর পাঠিয়ে দিই। কি জানি, নিজেই হয়তো বা একটা মস্ত ডাক্তার নিয়ে সকালে হাজির হয়ে যায়—বলা যায় না কিছু - ওদের তো আর আমাদের মতো টাকার মায়া নেই—দশ-বিশ হাজার থাকলেই বা কি, গেলেই বা কি ! বুথমার কোম্পানি–ডিরেক্টারই বলে আর শোয়ার হোল্ডারই বলে, যা করে ঐ মিস্টার ঘোষাল। বললুম যে তোমাকে, লোকটা কোটি টাকার মালিক। কোটি টাকা! জার্মানি, হল্যাণ্ডের সঙ্গে মস্ত কারবার-বছরে দু-চারবার এমন যুরোপ ঘুরে আসতে হয়—জেনারেল ম্যানেজার শপ সাহেবই ওর মাইনে পায় তিন হাজার টাকা । মন্ত লোক। জাতার চিনি চালানিতেই গেল বছরে – ዓ•