প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বাদশ সম্ভার).djvu/৯৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষের পরিচয় ব্ৰজবাবু বলিলেন, ভাবচি, রেণু ভালো হলে আমরা দেশে চলে যাবো। সেখানে শুধু দয়া করে মেয়েটিকে কেউ যদি নেয় ওর বিয়ে দেবে, তার পরেও যদি বেঁচে থাকি, গোবিন্দর সেবা করে পাড়াগায়ে কোনরকমে বাকী দিন কটা আমার কেটে যাবে— এই ভরসা। কিন্তু সবিতার কাছে কোন উত্তর না পাইয়া তিনি বলিতে লাগিলেন, একটা মূলি হয়েছে রেণুকে নিয়ে, তাকে রাজি করাতে পারিনি। তাকে তুমি জানো না, কিন্তু সে হয়েচে তোমার মত অভিমানী, সহজে কিছু বলে না, কিন্তু যখন বলে তার আর অস্তথা কয়ানো যায় না । যেদিন এই বাসাটায় চলে এলাম, সেদিন রেণু বললে, চলে বাবা আমার দেশে চলে যাই ; কিন্তু আমার বিয়ে দেবার তুমি চেষ্টা কোরো না, আমার বাবাকে একলা ফেলে রেখে আমি কোথাও যেতে পারবে না । বললাম, আমি তো বুড়ো হয়েছি মা, কটা দিনই বা বাঁচবো, কিন্তু তখন তোর কি হবে বল দিকি ? ও বললে, বাবা, তুমি তো আমার অদৃষ্ট বদলাতে পারবে না। ছেলেবেলায় মা যাকে ফেলে দিয়ে যায়, যার বিয়ের দিনে অজানা বাধার সমস্ত ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, বাপের রাজ্য-সম্পদ যার ভোজবাজির মতো বাতাসে উড়ে যায়, তাকে মুখ-ভোগের জন্যে ভগবান সংসারে পাঠান না, তার দুঃখের জীবন দুঃখেই শেষ হয় । এই আমার কপালের লেখা বাবা, আমার জন্যে ভেবে ভেবে আর তুমি কষ্ট পেয়ে না। খলিতে বলিতে সহসা গলাটা তাহার ভারি হইয়া আসিল, কিন্তু সামলাইয়া লইয়া কহিলেন, রেণু কথাগুলো বললে বিরক্ত হয়েও নয়, দুঃখের ধাক্কায় ব্যাকুল হয়েও নয় ; ও জানে ওর ভাগ্যে এ-সব ঘটবেই । ওর মুখের উপর বিষাদের কালো ছায়া নেই, বললেও খুব সহজে—কিন্তু যা মুখে এলো তাই বলা নয়, খুব ভেবেচিন্তেই বলা । তাই ভয় হয়, এ থেকে হয়তে ওকে সহজে টলানো যাবে না। তবু ভাবি নতুন-বে), এ দুর্ভাগ্যেও এই আমার মস্ত সাম্বন যে, বেণু আমার শোক করতে বসেনি, আমাকে মনে মনেও একবার সে তিরস্কার করেনি। স্বামীর প্রতি একষ্টে চাহিয়া সবিতার দুই চোখে জল ভরিয়া আসিল, কহিলেন, মেজকৰ্ত্ত, বেঁচে থেকে সমস্তই চোখে দেখবো, কানে শুনবো, কিন্তু কিছু করতে পাবো না ? ব্ৰজবাৰু বলিলেন, কি করতে চাও নতুন-বোঁ, রেণুতো কিছুতেই তোমার সাহায্য নেবে না । আর আমি— সবিতার জিহ্বা শাসন মানিল না, অকস্মাৎ জিজ্ঞাসা করিয়া বলিলেন, রেণু কি জানে আমি আজও বেঁচে আছি মেজকর্তা ? কথা কয়টি সামান্তই, কিন্তু প্রশ্নটি যে র্তাহার কতদিকে কতভাবে তাহার রাত্রির স্বপ্ন, দিনের কল্পনা ছাইয়া আছে, এ সংবাদ তিনি ছাড়া কে জানে ? পাণ্ড-মুখে b**