প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কাটিতেছিল, তখনকার সহস্রপ্রকার দুঃখের বিবরণ শুনিতে শুনিতে তাহার বুকের ভিতর কি ঝড় উঠবে, দুই চক্ষু প্লাবিত করিয়া কিরূপ অশ্রধারা ছুটিবে, তাহ কত রসে, কত রঙে ভরিয়া যে, দিনের পর দিন কল্পনায় দেখিয়াছি, তাহা বলিতে পারি না। এখন সেইটাই আমাকে সবচেয়ে লজ্জায় বিধিল । মনে হইল, ছিছি— ভাগ্যে কেহ কাহারো মনের খবর পায় না—নইলে—কিন্তু থাকৃ গে সে কথা । মনে মনে বলিলাম, আর যাহাই করি সেই মরণ-র্বাচনের গল্প আর তাহার কাছে করিতে যাইব না। বৌবাজারের বাসায় আসিয়া পৌছিলাম। রাজলক্ষ্মী হাত দিয়া দেখাইয়া কহিল, এই সিড়ি—তোমার ঘর তেতলায়। একটু শুয়ে পড় গে। আমি যাচ্চি। বলিয়া সে নিজে রান্নাঘরের দিকে চলিয়া গেল । ঘরে ঢুকিতে দেখিলাম, এ ঘর আমার জন্যই বটে। পাটনার বাড়ি হইতে আমার বইগুলি, আমার গুড়গুডিটি পর্য্যন্ত আনিতে পিয়ারী বিস্তৃত হয় নাই। একখানি দামী স্বৰ্য্যাস্তের ছবি আমার ভাল লাগিত । সেখানি সে নিজের ঘর হইতে খুলিয়া আমার শোবার ঘরে টাঙ্গাইয়া দিয়াছিল। সেই ছবিটি পর্য্যস্ত সে কলিকাতায় সঙ্গে আনিয়াছে এবং ঠিক তেমনি করিয়া দেওয়ালে ঝুলাইয়া দিয়াছে। আমার লিখিবার সাজসরঞ্জাম, আমার কাপড়, আমার সেই লাল মখমলের চটিজুতাটি পর্য্যন্ত ঠিক তেমনি সযত্বে সাজানো রহিয়াছে। একখানি আরামচৌকি আমি সৰ্ব্বদা সেখানে ব্যবহার করিতাম। সেটি বোধ করি আনা সম্ভব হয় নাই, তাই নূতন একখানি সেইভাবে জানালার ধারে পাতা রহিয়াছে। ধীরে ধীরে তাহারি উপরে গিয়া চোখ বুজিয়া গুইয়া পড়িলাম। মনে হইল যেন ভাটার নদীতে আবার জোয়ারের জলোচ্ছাসের শব্দ মোহনার কাছে শুনা যাইতেছে। স্নানাহার সারিয়া ক্লান্তিবশতঃ দুপুর বেলায় ঘুমাইয়া পড়িয়াছিলাম। ঘুম ভাঙ্গিতে দেখিলাম, পশ্চিমের জানালা দিয়া অপরাহ-রৌদ্র আমার পায়ের কাছে আসিয়া পড়িয়াছে এবং পিয়ারী এক হাতে ভর দিয়া আমার মুখের উপর ঝুকিয়া পড়িয়া অন্য হাতে আঁচল দিয়া আমার কপালের, কাধের এবং বুকের ঘাম মুছিয়া লইতেছে। কহিল, ঘামে বালিশ-বিছানা ভিজে গেছে। পশ্চিম খোলা—এ ঘরটা ভারী গরম। কাল দোতলায় আমার পাশের ঘরে তোমার বিছানা করে দেব। বলিয়া আমার বুকের একান্ত সন্নিকটে বসিয়া পাখাটা তুলিয়া লইয়া বাতাস করিতে লাগিল। রতন ঘরে চুকিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ম, বাবুর চা নিয়ে আসব ? ই, নিয়ে আয়। আর বন্ধু বাড়ি থাকে ত একবার পাঠিয়ে দিস। আমি আবার চোখ বুজিলাম। খানিক পরেই বাহিরে চটজুতার আওয়াজ পাওয়া গেল। পিয়ারী ভাকিয়া কহিল, কে বন্ধু ? একবার এ-দিকে আয় দিকি। 净蝴