প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১০৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আমি কহিলাম, ई] । তাহার কল্পনা দ্রুতবেগে চলিয়াছিল, তাই তৎক্ষণাৎ কহিল, আঃ–ছেলেমেয়ে গুলোর আজ কি ঘূৰ্ত্তি—কেউ চেঁচামেচি করবে, কেউ গলা জড়িয়ে বাপের কোলে উঠতে চাইবে, কেউ মাকে খবর দিতে রান্নাঘরে দৌড়বে বাড়িতে বাড়িতে আজ যেন একটা কাণ্ড বেধে যাবে, না ? বলিতে বলিতেই তাহার সমস্ত মুখ উজ্জল হইয়া উঠিল। আমি সায় দিয়া বলিলাম, খুব সম্ভব বটে। রাজলক্ষ্মী গাড়ির জানাল দিয়া আবার কিছুক্ষণ তাহাদের প্রতি চাহিয়া থাকিয়া হঠাৎ ফোস করিয়া একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, ই গা, এদের মাইনে কত ? বলিলাম, কেরাণীর মাইনে আর কত হয়, পচিশ-ত্রিশ-কুড়ি—এমনি । রাজলক্ষ্মী কহিল, কিন্তু বাড়িতে ত এদের মা আছেন, ভাই-বোন আছে, স্ত্রী আছে, ছেলেপুলে আছে— আমি যোগ করিয়া দিলাম, দুই-একটি বিধবা বোন আছে, কাজকৰ্ম্ম, লোকলৌকিকতা, ভদ্রত আছে, কলিকাতার বাস খরচ আছে, অবিচ্ছিন্ন রোগেব খরচ– বাঙালী কেরানী-জীবনের সমস্তই নির্ভর করে এই ত্রিশটি টাকার উপর। রাজলক্ষ্মীর যেন দম আটকাইয়া আসিতেছিল। সে এমনি ব্যাকুল হইয়া বলিয়া উঠিল, তুমি জান না। এদের বাড়িতে সব বিষয়-আশয় আছে। নিশ্চয় আছে। তাহার মুখ দেখিয়া তাহাকে নিরাশ করিতে আমার বেদনাবোধ হইল, তথাপি বলিলাম, এদের ঘরকন্নার ইতিহাস আমি ঘনিষ্ঠভাবেই জানি । আমি নিঃসংশয়ে জানি এদের চোদঅানা লোকের কিছু নেই। চাকরি গেলে হয় ভিক্ষা, না হয় সমস্ত পরিবারের সঙ্গে উপোস করতে হয়। এদের ছেলেমেয়েদের কথা শুনবে ? রাজলক্ষ্মী অকস্মাৎ দুই হাত তুলিয়া চেচাইয়া উঠিল, না-না, শুনব না, শুনব না— আমি চাইনে শুনতে । সে যে প্রাণপণে অশ্র সংবরণ করিয়া আছে, সে তাহার চোখের প্রতি চাহিবামাত্রই টের পাইলাম, তাই আর কিছু না বলিয়া পুনরায় পথের দিকে মুখ ফিরাইলাম। অনেকক্ষণ পৰ্য্যন্ত আর তাহার সাড়াশবা পাইলাম না। এতক্ষণ অবধি বোধ করি সে নিজের সঙ্গে ওকালতি করিয়া শেষে নিজের কৌতুহলের কাছে পরাজয় মানিয়া, আমার জামার খুঁট ধরিয়া টানিল। ফিরিয়া চাহিতেই সে করুণকণ্ঠে কহিল, আচ্ছ, বল ওঁদের ছেলেপুলের কথা। কিন্তু তোমার দুটি পায়ে পড়ি, মিছিমিছি বাড়িয়ে ব'লো না। দোহাই তোমার ! তাহার মিনতি করার ভঙ্গি দেখিয়া আমার হাসি পাইল, কিন্তু হাসিলাম না ; বরঞ্চ কিঞ্চিৎ অতিরিক্ত গাতীর্ঘ্যের সহিত বলিলাম, বাড়িয়ে বলা ত দূরের কথা, ४ ७२