প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্ত্রীকান্ত তুমি জিজ্ঞাসা করা সত্বেও শোনাতাম না, যদি না তুমি একটু আগে নিজের সম্বন্ধে ভিক্ষা ক’রে ছেলে মানুষ করার কথা বলতে । ভগবান যাদের পাঠান, তিনিই তাদের স্থব্যবস্থার ভার নেন, এ একটা কথা বটে। অস্বীকার করলে নাস্তিক বলে হয়ত আবার আমাকে গাল-মন্দ করবে, কিন্তু সন্তানের দায়িত্ব বাপ-মায়ের উপর কতট, আর ভগবানের উপর কতটা, এ দুই সমস্যার মীমাংস৷ তুমি নিজেই ক’রো—আমি যা জানি তাই শুধু বলব। কেমন? 輸 সে নীরবে আমার দিকে জিজ্ঞাস্ক-মুখে চাহিয়া আছে দেখিয়া কহিলাম, ছেলে জন্মালে তাকে কিছুদিন বুকের দুধ দিয়ে বঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব তার মায়ের উপরই থাকে ব’লে আমার মনে হয় । ভগবানের উপর আমার অচলা ভক্তি, তার দয়ার প্রতিও আমার অন্ধ বিশ্বাস। কিন্তু তবুও মায়ের বদলে তার নিজের এই ভারটা নেবার উপায় আছে কি না— রাজলক্ষ্মী রাগ করিয়া হাসিয়া কেলিয়া বলিল, দেখ চালাকি ক’রো না—সে আমি জানি । জানো ? যাক, তা হলে একটা জটিল সমস্যার মীমাংসা হ’ল । কিন্তু ত্রিশ-টাকাঘরের জননীর দুধের উৎস শুকিয়ে আসতে কেন যে বিলম্ব হয় না, সে জানতে হলে কোন ত্রিশ-টাকা-ঘরের প্রস্থতির আহারের সময় উপস্থিত থাকা আবশুক । কিন্তু সে যখন পারবে না, তখন এ ক্ষেত্রে আমার কথাটা না হয় মেনেই নাও ! রাজলক্ষ্মী মানমুখে নিঃশব্দে চাহিয়া রহিল। আমি বলিলাম, পাড়াগায়ে যে গো-দুগ্ধের একান্ত অভাব, এ কথাটাও তোমাকে মেনে নিতে হবে । রাজলক্ষ্মী তাড়াতাড়ি কহিল, এ আমি নিজেও জানি। ঘরে গরু থাকে ত ভাল, নইলে আজকাল মাথা খুড়ে মলেও কোন পল্লীগ্রামে এক ফোটা দুধ পাবার জো নেই। গরুই নেই, তার আবার দুধ ! বলিলাম, যাক, আরও একটা সমস্তার সমাধান হ’ল। তখন ছেলেটার ভাগ্যে রইল স্বদেশী খাটি পানা পুকুরের জল, আর বিদেশী কোঁটা-ভরা খাটি বার্লির গুড়ো। কিন্তু তখনও দুর্ভাগাটার অদৃষ্ট হয়ত এক-আধ ফোটা তার স্বাভাবিক খাদ্যও জোটে, কিন্তু, সে সৌভাগ্য এ-সব ঘরে বেশীদিন থাকার আইন নেই। মাস-চারেকের মধ্যেই আর একটি নূতন আগন্তুক তার আবির্ভাবের নোটিশ দিয়ে দাদার মাতৃদুগ্ধের বরাদ্দ একেবারে বন্ধ করে দেয়। এ বোধ করি তুমি— রাজলক্ষ্মী লজ্জায় রাঙ্গ হইয়া উঠিল, হুঁ, ই, জানি। এ আর আমাকে ব্যাখ্যা ক’রে বোঝাতে হবে না ! তুমি তারপরে বল । مياه يج