প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐীকান্ত তাহাকে তামাক দিতে হুকুম করিয়া, থালায় করিয়া সমস্ত খাদ্যসামগ্রী সাজাইয়া সম্মুখে ধরিয়া দিল। দেখিলাম, এ বিষয়ে একবিন্দু ভুলচুক কোথাও নাই ; আমি যাহা কিছু ভালবাসি সমস্ত খু টাইয়া সংগ্ৰহ করিয়া আনা হইয়াছে। বেঞ্চের উপর রতন বিছানা পাতিয়া দিল। পরিপাটি ভোজন সমাধা করিয়া গুড়গুড়ির নল মুখে দিয়া আরামে চোখ বুজিবার উপক্রম করিতেছি, রাজলক্ষ্মী কহিল, খাবারগুলা সরিয়ে নিয়ে যা রতন। যা পারিস খেগে যা—আর তোদের গাড়িতে অন্য কেউ যদি খায় দিস। কিন্তু রতনের অত্যন্ত লজ্জা ও সঙ্কোচ লক্ষ্য করিয়া একটু আশ্চৰ্য্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, কই, তুমি খেলে না ? রাজলক্ষ্মী বলিল, না, আমার ক্ষিদে নেই, যা না রতন, দাড়িয়ে রইলি কেন, গাড়ি ছেড়ে দেবে যে । রতন লজ্জায় যেন মরিয়া গেল। কহিল, আমার অন্যায় হয়ে গেছে বাবু, মোচলমান কুলিতে খাবারটা ছুঁয়ে ফেলেচে। কত বলচি, মা ইস্টিশান থেকে কিছু কিনে এনে দিই, কিন্তু কিছুতেই না। বলিয়া সে আমার মুখের প্রতি সকাতর দৃষ্টিক্ষেপ করিয়া ঠিক যেন আমারই অনুমতি ভিক্ষা করিল। কিন্তু আমার কথা কহিবার পূৰ্ব্বেই রাজলক্ষ্মী তাহাকে একটা তাড়া দিয়া বলিয়৷ উঠিল, তুই যাবি, না দাড়িয়ে তর্ক করবি ? রতন আর দ্বিরুক্তি না করিয়া খাবারের পাত্রটা হাতে লইয়া বাহির হইয়া গেল ; ট্রেন ছাড়িলে রাজলক্ষ্মী আমার শিয়রে আসিয়া বসিল । মাথায় চুলের মধ্যে ধীরে ধীরে অঙ্গুলি চালনা করিতে করিতে কহিল, আচ্ছা দেখ— বাধা দিয়া কহিলাম, পরে দেখব অখন। কিন্তু— সেও আমাকে তৎক্ষণাৎ থামাইয়া দিয়া বলিল, তোমার ‘কিন্তু গেয়ে লেকচার দিতে হবে না, আমি বুঝেচি। আমি মুসলমানকে ঘৃণাও করিনে, সে ছুলে খাবার নষ্ট হয়ে যায়, তাও মনে করিনে। করলে নিজের হাতে তোমাকে খেতে দিতুম না। কিন্তু নিজে খেলে না কেন ? মেয়েমানুষের খেতে নেই। কেন ? কেন আবার কি ? মেয়েমানুষের খাওয়া নিষেধ । কিন্তু পুরুষমানুষের নিষেধ নেই ? রাজলক্ষ্মী আমার মাথাটা নাড়িয়া দিয়া বলিল, না । পুরুষমানুষের জন্যে আবার এত বাধা-বাধি আইন-কানুন কিসের জন্তে ? তারা যা ইচ্ছে খাক, যা ইচ্ছে করুক, যেমন করে হোক স্বখে থাক, আমরা আচার পালন করে গেলেই হ'লো। আমরা SA A