পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐকান্ত তাহা ধীরে ধীরে সুস্পষ্ট হইয়া মনে হইতে লাগিল, বাস্তবিকই অনেকখানি সত্য ইহাতে লুকাইয়া আছে, যাহা আজ পর্য্যস্ত আমার দৃষ্টিগোচর হয় নাই । রাজলক্ষ্মী কহিল, তুমি সেই ভদ্রলোকটির সম্বন্ধে তামাশা করেছিলে। কিন্তু তার কথা শুনে আমার কতখানি চোখ খুলে গেছে, সে ত জানো না ? জানি না, তাহা স্বীকার করিতেই সে কহিতে লাগিল, জানো না তার কারণ আছে। কোন জিনিস জানবার জন্যে যতক্ষণ না মানুষের বুকের ভেতর থেকে একটা ব্যাকুলত৷ ওঠে, ততক্ষণ সবই তার চোখে ঝাপা হয়ে থাকে। এতদিন তোমার মুখে শুনে ভাবতুম, সত্যিই যদি আমাদের দেশের লোকের দুঃখ এত বেণী, সত্যিই যদি আমাদের সমাজ এমন ভয়ানক অন্ধ, তবে তার মধ্যে মানুষ বেঁচে থাকেই বা কি করে, তাকে মেনে চলেই ব! কি করে । আমি চুপ করিয়া শুনিতেছি দেখিয়া সে আস্তে আস্তে বলিল, আর তুমিই বা এত বুঝবে কি করে ? কখনো এদের মধ্যে থাকোনি, কখনো এদের সুখ-দুঃখ ভোগ করেনি তাই বাইরে থেকে বাইরের সমাজের সঙ্গে তুলনা করে ভাবতে, এদের বুঝি কষ্টের আর অবধি নেই। যে বড়লোক জমিদার পোলাও খেয়ে থাকে, সে তার কোন দরিত্র প্রজাকে পাস্ত ভাত খেতে দেখে যদি ভাবে, এর দুঃখের আর সীমা নেই—তার যেমন ভুল হয়, তোমারও তেমনি ভুল হয়েচে । বলিলাম, তোমার তর্কটা যদিচ ন্যায়শাস্ত্রের আইনে হচ্ছে না, তবুও জিজ্ঞাসা করি কি করে জানলে দেশের সম্বন্ধে আমার এর চেয়ে বেশী জ্ঞান নেই ? রাজলক্ষ্মী কহিল, কি করে থাকবে ? তোমার মত স্বার্থপর লোক আর সংসারে আছে নাকি ? যে কেবল নিজের আরামের জন্যে পালিয়ে বেড়ায়, সে ঘরের খবর জানবে কোথা থেকে ! তোমাদের মত লোকই সমাজের বেশী নিন্দে করে বেড়ায় যারা সমাজের কোন ধারই ধারে না । তোমরা না জানো ভাল ক’রে পরের সমাজ, না জানো ভালো ক’রে নিজেদের সমাজ । বলিলাম, তার পরে ? রাজলক্ষ্মী কহিল, তার পরে এই যেমন বাইরে থেকে বাইরের সামাজিক ব্যবস্থা দেখে তোমরা ভেবে মরে যাও, আমাদের মেয়ের বাড়ির মধ্যে আবদ্ধ থেকে দিনরাত কাজ করে বলে তাদের মত দুঃখী, তাদের মত পীড়িত, তাদের মত হীন আর বুঝি কোন দেশের মেয়ে নেই। কিন্তু দিনকতক আমাদের ভাবনা ছেড়ে দিয়ে নিজেদের চিন্তা কর দেখি ! নিজেদের একটু উচু করবার চেষ্টা করে—যদি কোথাও কিছু সত্যিকার গলদ থাকে, সে শুধু তখনই চোখে পড়বে—কিন্তু তার আগে নয়। কহিলাম, তার পরে ? রাজলক্ষ্মী রাগ করিয়া বলিল, তুমি আমাকে তামাশা করচ, তা জানি। কিন্তু כולל ३भू-३९