পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রীকান্তু আবার দুজনে নিস্তব্ধ হইয়া রহিলাম। তাহার কথাটা এতই স্পষ্ট ষে, সবাই বুঝিতে পারে, আমারও বুঝিতে বিলম্ব হইল না। কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, এ-সব কথা তোমার কবে থেকে মনে হয়েচে ? রাজলক্ষ্মী কহিল, যেদিন অভয়ার কথা শুনেচি, সেইদিন থেকে । বলিলাম, কিন্তু তাদের জীবন-যাত্রা ত এর মধ্যেই শেষ হয়ে যায়নি। ভবিষ্যতে তারা যে কত দুঃখ পেতে পারে, এ ত তুমি জানো না । সে মাথা নাড়িয়া কহিল, না, জানিনে সত্যি ; কিন্তু যত দুঃখই তারা পাক, আমার মত দুঃখ যে তারা কোন দিন পাবে না, এ আমি নিশ্চয় বলতে পারি। আবার কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া বলিলাম, লক্ষ্মী, তোমার জন্যে আমি সৰ্ব্বস্ব ত্যাগ করিতে পারি, কিন্তু সন্ত্রম ত্যাগ করি কি ক’বে ? রাজলক্ষ্মী কহিল, আমি কি তোমাকে তাই বলচি ? অার সম্ভমই ত মানুষের আসল জিনিস। সেই যদি ত্যাগ করতে পারে না, তবে ত্যাগের কথা মুখে আনচো কেন ? তোমাকে ত আমি কিছুই ত্যাগ করতে বলিনি ! বলিলাম, বলনি বটে, কিন্তু পারি। সন্ত্রম যাওয়ার পরে পুরুষমানুষের বেঁচে থাকা বিড়ম্বন । শুধু সেই সম্রম ছাড৷ তোমার জন্যে আর সমস্তই আমি বিসর্জন দিতে পারি। বাজলক্ষ্মী সহসা হাতটা টানিয লইয়া কহিল, আমাক জন্যে তোমাকে কিছুষ্ট বিসর্জন দিতে হবে না। কিন্তু তুমি কি মনে কর শুধু তোমাদেরই সন্ত্রম আছে, আমাদের নেই? আমাদের পক্ষে সেটা ত্যাগ করা এতই সহজ ? তবু তোমাদের জন্যেই কত শত-সহস্ৰ মেয়েমানুষ যে এটাকে ধূলোব মত ফেলে দিয়েচে, সে-কথা তুমি জানো না বটে, কিন্তু আমি জানি । আমি কি একটা বলিবার চেষ্টা করিতেই সে আমাকে থামাইয়া দিয়া বলিল, থাকৃ, আর কথায় কাজ নেই। তোমাকে আমি এতদিন যা ভেবেছিলুম তা ভুল । তুমি ঘুমোও—এ সম্বন্ধে আর আমিও কোনদিন কথা কইব না, তুমিও কয়ে না। বলিয়া সে উঠিয় তাহার নিজের বেঞ্চিতে গিয়া বসিল । পরদিন যথাসময়ে কাশী আসিয়া পৌছিলাম এবং পিয়ারীর বাটতেই আশ্রয় গ্রহণ করিলাম। উপরের দুইখানি ঘর ভিন্ন প্রায় সমস্ত বাড়িটাই নানা বয়সের বিধবা স্ত্রীলোকে পরিপূর্ণ। পিয়ারী কহিল, এরা সব আমার ভাড়াটে -বলিয়া মুখ ফিরাইয়া একটু হাসিল। বলিলাম, হাসলে যে ? ভাড়া আদায় হয় না বুঝি ? পিয়ারী কহিল, না। বরঞ্চ কিছু কিছু দিতে হয়। তার মানে ? b ) &