প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকান্ত ঘুরিয়া কত কি দেখিয়া শুনিয়া রাত্রি দশটার পর বাড়ি আসিয়া শুনিলাম, পিয়ারী তখনও ফিরে নাই। ব্যাপার কি ? কেমন যেন একটা ভয় করিতে লাগিল। রতনকে ডাকিয়া সমস্ত সঙ্কোচ বিসর্জন দিয়া এ সম্বন্ধে তত্ত্ব লইব কি না ভাবিতেছি, একটা ভারি জুড়ির শব্দে জানাল দিয়া চাহিয়া দেখি প্রকাগু ফিটন আমাদের বাড়ির সম্মুখেই থামিয়াছে। পিয়ারী নামিয়া আসিল । জ্যোৎস্নার আলোকে তাহার সর্বাঙ্গের জড়োয়া অলঙ্কার বক্‌বক্ করিয়া উঠিল। যে দুইজন ভদ্রলোক গাড়িতে বসিয়াছিলেন, তাহারা মৃদুকণ্ঠে বোধ করি পিয়ারীকে সম্ভাষণ করিয়া থাকিবেন—শুনিতে পাইলাম না। তাহারা বাঙালী কি বিহারী তাহাও চিনিতে পারিলাম না—চাবুক খাইয়া জুড়ি ঘোড়া চক্ষের পলকে দৃষ্টি অতিক্রম করিয়া চলিয়া গেল । Ꮌ☾ রাজলক্ষ্মী আমার তত্ত্ব লইতে সেই সাজেই আমার ঘরে আসিয়া প্রবেশ করিল। আমি লাফাইয়া উঠিয়া তাহার প্রতি দক্ষিণ হস্ত প্রসারিত করিয়া থিয়েটারী গলায় কহিলাম, ওরে পাষণ্ড রোহিণী ? তুই গোবিন্দলালকে চিনিস না ? আহা! আজ যদি আমার একটা পিস্তল থাকিত ! কিংবা একখানা তলোয়ার ! রাজলক্ষ্মী শুষ্ককণ্ঠে কহিল, তা হলে কি করতে ?—খুন ? হাসিয়া বলিলাম, না ভাই পিয়ারী, আমার অত বড় নবাবী শখ নেই। ত৷ ছাড়া এই বিংশ-শতাব্দীতে এমন নিষ্ঠুর নরাধম কে আছে যে, সংসারে এই এত বড় একটা আনন্দের খনি পাথর দিয়ে বদ্ধ করে দেবে? বরঞ্চ আশীৰ্ব্বাদ করি, ছে বাইজীকুলরাণী ! তুমি দীর্ঘজীবিনী হও, তোমার রূপ ত্রিলোকবিজয়ী হোক, তোমার কণ্ঠ বীণানিন্দিত এবং ঐ দুটি চরণকমলের নৃত্য উৰ্ব্বশী তিলোত্তমার গৰ্ব্ব খৰ্ব্ব করুক —আমি দূর হইতে তোমার জয়গান করিয়া ধন্য হই! পিয়ারী কহিল, এ সকল কথার অর্থ ? বলিলাম, অর্থমনৰ্থম্‌। সে যাক, আমি এই একটার ট্রেনে বিদায় হলুম। সম্প্রতি প্রয়াগ, পরে বাঙালীর পরম তীর্থ চাকরিস্থান—অর্থাৎ বর্খা। যদি সময় এবং স্বযোগ হয়, দেখা ক’রে যাবো। আমি কোথায় গিয়েছিলুম, তাও শোনা তুমি আবখ্যক মনে কর না ? কিছু না, কিছু না । এই ছুতো পেয়ে কি তুমি একেবারে চলে যাচ্চো ? বলিলাম, পাপ-মুখে এখনও বলতে পারিনে। এ গোলকধাঁধা যদি পার হতে পারি তবেই। Σ Σλ