প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰহ, তোমাদের ম্যালোয়ারী রাজার প্রজ নই। তার দোহাই পেডে অত্যাচার হয়ত আমার সইবে না। আজ আমার একাদশী । সমস্ত দিন-রাত্রি গেল, পরদিন গেল, তাহার পরের দিনও কাটিয়া গেল, কিন্তু জর ছাড়িল না। বরঞ্চ উত্তরোত্তর বাড়িয়াই চলিতেছে দেখিয়া মনে মনে উদ্বিগ্ন হইয়া উঠিলাম। গোবিন্দ ডাক্তার এ-বেলা ও-বেলা আসিতে লাগিলেন, নাড়ি টিপিয়া, জিব দেখিয়া, পেট কিয়া ভাল ভাল মুখরোচক মুম্বাছ ঔষধ যোগাইয়া মাত্র কেন দাম’টুকু গ্রহণ করিতে লাগিলেন, কিন্তু দিনের পর দিন করিয়া সপ্তাহ গড়াইয়া গেল। বাবার মাতুল—আমার ঠাকুরদাদা আসিয়া বলিলেন, তাই ত ভায়া, আমি বলি কি, সেখানে খবর দেওয়া যাক—তোমার পিসীমা আস্থক। জরটা কেমন যেন । কথাটা সম্পূর্ণ না করিলেও বুঝিলাম, ঠাকুরদাদা একটু মুস্কিলে পড়িয়াছেন । এমনি ভাবে আরও চার-পাচদিন কাটিয়া গেল, কিন্তু জরের কিছুই হইল না। সেদিন সকালে গোবিন্দ ডাক্তার আসিয়া যথারীতি ঔষধ দিয়া তিন দিনের বাকী কেনা দামটুকু প্রার্থনা করিলেন। শয্যা হইতে কোনমতে হাত বাড়াইয়া ব্যাগ খুলিলাম—মনিব্যাগ নাই। শঙ্কায় পরিপূর্ণ হইয়া উঠিয়া বসিলাম। ব্যাগ উপুড করিয়া ফেলিয়া তন্ন তন্ন করিয়া সমস্ত অনুসন্ধান করিলাম, কিন্তু যাহা নাই, তাহ। পাওয়া গেল না । গোবিন্দ ডাক্তার ব্যাপারটা অল্পমান করিয়া ব্যস্ত হইয়া বার বার প্রশ্ন করিতে লাগিলেন, কিছু গিয়াছে কি না। বলিলাম, আজ্ঞে না, যায়নি কিছুই । কিন্তু তাহার ঔষধের মূল্য যখন দিতে পারিলাম না, তখন তিনি সমস্ত বুঝিয়া লইলেন। স্তম্ভিতের স্যায় কিছুক্ষণ দাড়াইয়া থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ছিল কত ? যৎসামান্ত । চাবিটা একটু সাবধানে রাখতে হয় বাবাজী। যাক, তুমি আমার পর নও, দামের জন্যে ভেবে না, ভাল হও, তার পরে যখন স্থবিধে হবে পাঠিয়ে দিয়ে, চিকিৎসার ক্রাট হবে না। এই বলিয়া ডাক্তারবাবু পর হইয়া পরমাত্মীয়ের অধিক সাধনা দিয়া প্রস্থান করিলেন । বলিলাম, একথা কেউ যেন না শোনে। ডাক্তারবাবু বলিলেন, আচ্ছা, আচ্ছ, সে বোঝা যাবে। পাড়াগায়ে বিশ্বাসের উপর টাকা ধার দেওয়া প্রথা নাই। টাকা কেন, শুধু হাঙে একটা সিকি ধার চাহিলেও সবাই বুঝিবে, লোকটা নিছক তামাশা করিতেছে। কাণ, সংসারে এমন নিৰ্ব্বোধও কেহ আছে, শুধু হাতে ধার চায়, একথা পাড়া ১২৪