প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কখনো আর মুখুয্যে-বাড়িতে মাথা গলাবে না। তারিণী ঘোষালের ব্যাটা ঢুকৰে নেমস্তন্ন করতে আমার বাড়িতে ? আমি কিছুই ভুলিনি বেণীমাধব ! তারিণী তার এই ছেলের সঙ্গেই আমার রমার বিয়ে দিতে চেয়েছিল । তখনও ত আর আমার যতীন জন্মায়নি—ভেবেছিল, যত্ন মুখুয্যের সমস্ত বিষয়টা তাহলে মুঠোর মধ্যে আসবে—বুঝলে না বাবা বেণী ! তা যখন হ’ল না, তখন ঐ ভৈরব আচাযিাকে দিয়ে কি-সব জপ-তপ, তুক-তাক করিয়ে মায়ের কপালে আমার এমন আগুন ধরিয়ে দিলে যে, ছ’মাস পেরুল না বাছার হাতের নোয়া মাথার সিন্ধুর ঘুচে গেল। ছোটজাত হয়ে চায় কি না যদু মুখুয্যের মেয়েকে বেী করতে ! তেমনি হারামজাদার মরণও হয়েছে—ব্যাটার হাতের আগুনটুকু পৰ্য্যন্ত পেলে না। ছোটজাতের মুখে আগুন ! বলিয়া মাসী যেন কুস্তি শেষ করিয়া হাপাইতে লাগিলেন। পুনঃ পুনঃ ছোটজাতের উল্লেখে বেণীর মুখ মান হইয়া গিয়াছিল, কারণ তারিণী ঘোষাল তাহারই খুড়া। রমা ইহা লক্ষ্য করিয়া মাসীকে তিরস্কারের কণ্ঠে কহিল, কেন মাসী তুমি মামুষের জাত নিয়ে কথা কও? জাত ত আর কারুর হাতে-গড় জিনিস নয় ? যে যেখানে জন্মেছে সেই তার ভাল । বেণী লজ্জিতভাবে একটুখানি হাসিয়া কহিল, না রম, মাসী ঠিক কথাই বলচেন। তুমি কত বড় কুলীনের মেয়ে, তোমাকে কি আমরা ঘরে আনতে পারি বোন ! ছোটখুড়োর এ কথা মুখে আনাই বেয়াদবি। আর তুকতাকের কথা যদি বল ত সে সত্যি। দুনিয়ায় ছোটখুড়ো আর ঐ ব্যাট ভৈরব আচায্যির অসাধ্য কাজ কিছু নেই। ঐ ভৈরব ত হয়েচে আজকাল রমেশের भूति। মালী কহিলেন, সে ত জানা কথা বেণী ! ছোড়া দশ-বারো বছর ত দেশে আসেনি—এতদিন ছিল কোথায় ? কি করে জানব মাসী। ছোটখুড়োর সঙ্গে তোমাদেরও ষে ভাব, আমাদেরও তাই। শুনচি এত দিন নাকি বোম্বাই না কোথায় ছিল। কেউ বলচে ডাক্তারি পাশ করে এসেচে, কেউ বলচে উকিল হয়ে এসেচে, কেউ বলচে সমস্তই ফাকি— ছোড়া না কি পাড় মাতাল। যখন বাড়ি এসে পৌছিল, তখন দুচোখ নাকি জবাফুলের মত রাঙা ছিল। বটে ? তা হলে তাকে ত বাড়ি ঢুকতে দেওয়াই উচিত নয়! বেণী উৎসাহভরে মাথার একটা ঝাকানি দিয়া কহিল, নয়ই ত ! ই রমা, তোমার রমেশকে মনে পড়ে ? নিজের হতভাগ্যের প্রসঙ্গ উঠিয়া পড়ায় রমা মনে মনে লজ্জা পাইয়াছিল। সলজ মৃত্ব হাসিয়া কহিল, পড়ে বৈ কি ! সে ত আমার চেয়ে বেশী বড় নয়। তা ছাড়া אליל