প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্লী-সমাজ হয়। বৃহৎ কাজ কর্থের বাড়িতে কত ঠেঙাঠেঙি রক্তারক্তি পৰ্য্যস্ত হয়ে যায়— আবার যে-কে সেই হয়। নিন উঠুন চাটুযোমশাই-দেখুন দেখি আরও থান ফাড়ব কি না ? ধর্মদাস জবাব দিবার পূৰ্ব্বেই গোবিন্দ গাঙ্গুলী সোৎসাহে শিরশ্চালনপূৰ্ব্বক খাড়া হইয়া বলিল, হয়ই ত ! হয়ই ত ! ঢের হয় ! নইলে বিরদ কৰ্ম্ম বলেচে কেন ? শাস্তরে আছে লক্ষ কথা না হলে বিয়েই হয় না যে ! সে বছর-তোমার মনে আছে ভৈরব, যন্ত্র মুখুয্যেমশায়ের কন্যা রুমার গাছ পিতিষ্ঠের দিনে গিদে নিয়ে রাঘব ভট্চাযিাতে হারাণ চাটুযোতে মাথা-ফাটাফাটি হয়ে গেল ? কিন্তু আমি বলি ভৈরব-ভায়া, বাবাজীর এ কাজটা ভাল হচ্ছে না। ছোটলোকদের কাপড় দেওয়া আর ভক্ষে ঘি ঢালা এক কথা। তার চেয়ে বামুনদের একজোড়, আর ছেলেদের একখানা ক’রে দিলেই নাম হ’ত। আমি বলি বাবাজী, সেই যুক্তিই করুন, কি বল ধৰ্ম্মদাসদা ? ধৰ্ম্মদাস ঘাড় নাডিতে নাডিতে বলিলেন, গোবিন্দ মন্দ কথা বলেনি বাবাজী ! ও ব্যাটাদের হাজার দিলেও নাম হবার জো নেই। নইলে আর ওদের ছোটলোক বলেচে কেন ? বুঝলে না বাবা রমেশ ! এখন পর্য্যস্ত রমেশ নিঃশব্দে ছিল। এই বস্ত্র বিতরণের আলোচনায় সে একেবারে যেন মৰ্ম্মাহত হইয়া পড়িল। ইহার স্বযুক্তি-কুযুক্তি সম্বন্ধে নহে, এখন এইটাই তাহার সৰ্ব্বাপেক্ষা অধিক বাজিল যে, ইহারা যাহাদিগকে ছোটলোক বলিয়া ডাকে, তাহাদেরই সহস্ৰ চক্ষুর সম্মুখে এইমাত্র যে এত বড় একটা লজ্জাকর কাণ্ড করিয়া বসিল, সেজন্য ইহাদের কাহারও মনে এতটুকু ক্ষোভ বা লজ্জার কণামাত্রও নাই। ভৈরব মুখপানে চাহিয়া আছে দেখিয়া রমেশ সংক্ষেপে কহিল, আরও দু’শ কাপড় ঠিক করে রাখুন। তা নইলে কি হয় ? ভৈরবভায়া, চল, আমিও যাই—তুমি এক আর কত পারবে বল ? বলিয়া কাহারও সম্মতির অপেক্ষা না করিয়া গোবিন্দ উঠিয়া বস্ত্ররাশির নিকটে গিয়া বসিলেন। রমেশ বাটীর ভিতর যাইবার উপক্রম করিতেই ধৰ্ম্মদাস তাহাকে একপাশে ডাকিয়া চুপি চুপি অনেক কথা কহিলেন। রমেশ প্রত্যুত্তরে মাথা নাড়িয়া সম্মতিজ্ঞাপন করিয়া ভিতরে চলিয়া গেল। কাপড় গুছাইতে গুছাইতে গোবিন্দ গাজুলী আড়চোখে সব দেখিল। কৈ গা, বাবাজী কোথায় গো ? বলিয়া একটি শীর্ণকায় মুণ্ডিতৰ্ম্মশ্র প্রাচীন ব্রাহ্মণ প্রবেশ করিল। ইহার সঙ্গেও গুটি-তিনেক ছেলে-মেয়ে। মেয়েটি সকলের বড়। তাহারই পরনে শুধু একখানি অতি জীর্ণ ডুরে-কাপড়। বালক দুটি কোমরে এক একগাছি যুনসি ব্যতীত একেবারে দিগম্বর। উপস্থিত সকলেই মুখ তুলিয়া চাহিল। গোবিদ অভ্যর্থনা করিল, এল নীয়া, ব'লে। বড় ভাগি 38?