প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্লী-সমাজ জামরাও দাদামশাই, বলিয়া নাকে কঁাদিতে কঁাদিতে আরও তিন-চারটি ছেলে মেয়ে ছুটিয়া আসিয়া বৃদ্ধ ধর্মদাসকে ঘিরিয়া ধরিল। বেশ ত, বেশ ত, বলিয়া রমেশ ব্যস্ত হইয়া অগ্রসর হইয়া আসিল—ও আচায্যিমশাই, বিকেলবেলায় ছেলেরা সব বাড়ি থেকে বেরিয়েচে, খেয়ে ত আসেনি—ওহে ও, কি নাম তোমার ? নিয়ে এসে ত ঐ থালাটা এদিকে। ময়রা সদেশের থালা লইয়া আসিবামাত্র ছেলেরা উপুড় হইয়া পড়িল ; বাটিয়া দিবার অবকাশ দেয় না এমনি ব্যস্ত করিয়া তুলিল। ছেলেদের খাওয়া দেখিতে দেখিতে দীননাথের শুষ্কদুটি সজল ও তীব্র হইয়া উঠিল-ওরে ও খেদি, খাচ্ছিস ত, সন্দেশ হয়েচে কেমন বল দেখি ? বেশ বাবা, বলিয়া খেদি চিবাইতে লাগিল। দীমু মৃদু হাসিয়া ঘাড় নাড়িয়া বলিল, ই তোদের আবার পছন্দ ? মিষ্টি হলেই হ’ল। ই হে কারিগর, এ কড়াটা কেমন নামালে—কি বল গোবিন্দভায়া, এখনও একটু বোদ আছে বলে মনে হচ্ছে না ? ময়রা কোন দিকে না চাহিয়াই তৎক্ষণাৎ কহিল, আজ্ঞে আছে বৈ কি ! এখনো ঢের বেলা আছে, এখনো সন্ধ্যে-আহিকের— তবে কৈ দাও দেখি একটা গোবিন্দভায়াকে, চেখে দেখুক কেমন কলকাতার কারিগর তোমরা ! না, না, আমাকে আবার কেন ? তবে আধখানা—আধখানার বেশী নয়। ওরে ষষ্ঠীচরণ, একটু জল আন দিকি বাবা, হাতটা ধুয়ে ফেলি— রমেশ ডাকিয়া বলিয়া দিল, অমনি বাড়ির ভিতর থেকে গোটা-চারেক থালাও নিয়ে আসিস্ ষষ্ঠীচরণ। প্রভূর আদেশমত ভিতর হইতে গোটা-তিনেক রেকাবি ও জলের গেলাস আসিল এবং দেখিতে দেখিতে এই বৃহৎ থালার অৰ্দ্ধেক মিষ্টান্ন এই তিন প্রাচীন ম্যালেরিয়াক্লিষ্ট সদব্ৰাহ্মণের জলযোগে নিঃশেষিত হইয়া গেল। ই, কলকাতার কারিগর বটে ! কি বল ধর্মদাসদা ? বলিয়া দীননাথ রুদ্ধনিঃশ্বাস ত্যাগ করিলেন। ধর্মদাসদার তখনও শেষ হয় নাই, এবং যদিচ তাহার অব্যক্ত কণ্ঠস্বর সন্দেশের তাল ভেদ করিয়া সহজে মুখ দিয়া বাহির হইতে পারিল না, তথাপি বোঝা গেল এ-বিষয়ে তাহার মতভেদ নাই । ই, ওস্তাদি হাত বটে। বলিয়া গোবিন্দ সকলের শেষে হাত ধুইবার উপক্রম করিতেই ময়রা সবিনয়ে অনুরোধ করিল, যদি কষ্টই করলেন ঠাকুরমশাই, তবে মিহিদানাটা একটু পরখ করে দিন। মিহিদানা ? কই আনো দেখি বাপু ? মিছিঙ্গানা আসিল এবং এতগুলি সন্দেশের পরে এই নূতন বস্তুটির সদ্ব্যবহার . כוג ל