প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ দেখিয়া রমেশ নিঃশব্দে চাহিয়া রহিল ! দীননাথ মেয়ের প্রতি হস্ত প্রসারিত করিয়া কহিল, ওরে ও খেদি, ধৰ্ব দিকি মা এই দুটো মিহিদান । আমি আর খেতে পারব না বাবা । পারবি, পারবি। এক ঢোক জল খেয়ে গলাটা ভিজিয়ে নে দিকি, মুখ মেরে গেছে বৈ ত নয়! না পারিস আঁচলে একটা গেরো দিয়ে রাখ, কাল সকালে খাস, ই বাপু, খাওয়ালে বটে ! যেন অমৃত! তা বেশ হয়েচে । মিষ্টি বুঝি দুরকম করালে বাবাজী ! রমেশকে বলিতে হইল না। ময়রা সোৎসাহে কহিল, আজো না, রসগোল্লা, ক্ষীরমোহন— অ্যা ক্ষীরমোহন ! কৈ সে ত বার করলে না বাপু ? বিম্মিত রমেশের মুখের পানে চাহিয়া দীননাথ কহিলেন, খেয়েছিলুম বটে রাধানগরের বোসেদের বাড়ি। আজও যেন মুখে লেগে রয়েচে । বললে বিশ্বাস করবে না বাবাজী, ক্ষীরমোহন খেতে আমি বড় ভালোবাসি। রমেশ হাসিয়া একটুখানি ঘাড় নাড়িল। কথাটা বিশ্বাস করা তার কাছে অত্যন্ত কঠিন বলিয়া মনে হইল না। রাখাল কি কাজে বাহিরে যাইতেছিল, রমেশ তাহাকে ডাকিয়া কহিল, ভেতরে বোধ করি আচাযিামশাই আছেন ; যা ত রাখাল, কিছু ক্ষীরমোহন তাকে আনতে বলে আয় দেখি । সন্ধ্যা বোধ করি উত্তীণ হইয়াছে। তথাপি ব্রাহ্মণের ক্ষীরমোহনের আশায় উৎসুক হইয়া বসিয়া আছেন। রাখাল ফিরিয়া বলিল, আজ আর ভাড়ারের চাবি খোলা হবে না বাবু। রমেশ মনে মনে বিরক্ত হইল। কহিল, বল গে, আমি আনতে বলচি । গোবিন্দ গাঙ্গুলী রমেশের অসন্তোষ লক্ষ্য করিয়া চোখ ঘুরাইয়া কহিলেন, দেখলে দীমুদ, ভৈরবের আঙ্কেল ? এ যে দেখি মায়ের চেয়ে মাসীর বেশী দরদ। এই জন্যই আমি বলি– তিনি কি বলেন তাহা না শুনিয়া রাখাল বলিয়া উঠিল, আচাযিামশাই কি করবেন ? ও-বাড়ি থেকে গিল্পীমা এসে ভাড়ার বন্ধ করেছেন যে ! ধৰ্ম্মদাস এবং গোবিন্দ উভয়ে চমকিয়া উঠিল, কে, বড় গিন্নী ? রমেশ সবিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করিল, জ্যাঠাইমা এসেছেন ? আঞ্জে হুঁ, তিনি এসেই ছোট-বড় দুই ভাড়ারই তালাবদ্ধ করে ফেলেছেন। বিশ্বয়ে আনন্দে রমেশ দ্বিতীয় কথাটি না বলিয়া কৃতপদে ভিতরে চলিয়। ρήγη $8%