প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ পডিয়াছিল তাহার স্মরণ হইল। পাডুইমহাশয় জানাইল যে, চাল ছাওয়া না হইলে আগামী বর্ষায় বিদ্যালয়ের ভিতর আর কেহ বসিতে পারিবে না। কিন্তু সে না হয় পরে চিন্তা করিলে চলিবে, উপস্থিত প্রধান দুর্ভাবনা হইতেছে যে তিন মাস হইতে শিক্ষকের কেহ মাহিনা পায় নাই- সুতরাং ঘরের খাইয়া বন্যমহিষ তাড়াইয়া বেড়াইতে আর কেহ পারিতেছে না। ইস্কুলের কথার রমেশ একেবারে সজাগ হইয়া উঠিল। হেডমাস্টার মহাশয়কে বৈঠকখানায় লইয়। গিয়া একটি একটি করিয়া সমস্ত সংবাদ গ্রহণ করিতে লাগিল । মাস্টার-পণ্ডিত চারিজন এবং তাঁহাদের হাড়ভাঙা খাটুনির ফলে গড়ে দুইজন করিয়া ছাত্র প্রতি বৎসর মাইনার পরীক্ষায় পাস করিয়াছে। তাহাধের নাম-ধাম, বিবরণ পাডুইমহাশয় মুখস্থর মত আবৃত্তি করিষা দিলেন। ছেলেদের নিকট হইতে যাহা আদায় হয়, তাহাতে নীচের দুজন শিক্ষকের কোনমতে, ও গভর্ণমেণ্টের সাহায্যে আর একজনের সকুলান হয় , শুধু একজনের মাহিনাটাই গ্রামের ভিতরে এবং বাহিরে টাঙ্গা তুলিয়া সংগ্ৰহ করিতে হয়। এই চাদ সাধিবার তারও মাস্টারদের উপরেই—তাহারা গত তিন-চারি মাসকাল ক্রমাগত ঘুরিয়া প্রত্যেক বাটতে আট-দশবার করিয়া হঁাটাইটি করিয়া সাত টাকা চারি অনার বেশী আদায় করিতে পারেন নাই । কথা শুনিয়া রমেশ স্তম্ভিত হইয়া রহিল। পাঁচ-ছয়টা গ্রামের মধ্যে এই একটা বিদ্যালয় এবং এই পাঁচ ছয়টা গ্ৰামময় তিন-মাসকাল ক্রমাগত ঘুবিধা মাত্র সাত টাকা চারি আনা আদায় হইয়াছে। রমেশ প্রশ্ন করিল, আপনার মাহিন৷ কত ? মাস্টার কহিল, রসিদ দিতে হয় ছাব্বিশ টাকার, পাই তের টাকা পনের আনা । কথাটা রমেশ ঠিক বুঝিতে পারল না—তাহার মুখপানে চাহিয়া রহিল। মাস্টার তাহা বুঝাইয়া বলিল, আঞ্জে গভর্ণমেণ্টের হুকুম কি না, তাই ছাব্বিশ টাকার রসিদ লিখে দিয়ে সাব-ইনস্পেক্টারবাবুকে দেখাতে হয়—নইলে সরকারী সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়। সবাই জানে, আপনি কোন ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারবেন-আমি মিথ্যে বলচিনে । রমেশ অনেকক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া জিজ্ঞাসা করিল, এতে ছাত্রদের কাছে আপনার সম্মানহানি হয় না ? মাস্টার লজ্জিত হইল। কহিল, কি করব রমেশবাবু! বেণীবাবু ও কয়টি টাকাও দিতে নাত্বাজ । তিনি কর্তা বুঝি ? মাস্টার একবার একটুখানি দ্বিধা করিল ; কিন্তু তাহার না ৰলিলেই নয়। তাই সে ধীরে ধীরে জানাইল যে, তিনিই সেক্রেটারী বটে ; কিন্তু তিনি একটি পয়সাও ֆ*Հ