প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মাছ কাড়িয়া আনিতে এবং যদি কেউ বাধা দেয় তাহার চুল ধরিয়া টানিয়া, আনিতে, যদি না আনা সম্ভব হয়, অন্তত: তাহার একপাটি দাত যেন ভাঙ্গিয়া দিয়া সে আসে । ভজুয়া ত এই চায়। সে তাহার তেলে-পাকানো লাঠি আনিতে নিঃশবে ঘরে চুকিল। ব্যাপার দেখিয়া ভৈরব ভয়ে কঁপিয়া উঠিল। সে বাংলাদেশের তেলে-জলে মানুষ ; ইাকাইকি, চেঁচামেচিকে মোটে ভয় করে না । কিন্তু ঐ যে অতি দৃঢ়কায় বেঁটে হিন্দুস্থানীটা কথা কহিল না, শুধু ঘাড়টা একবার হেলাইয়া চলিয়া গেল, ইহাতে ভৈরবের তালু পর্য্যন্ত দুশ্চিন্তায় শুকাইযা উঠিল । তাহাব মনে পড়িল, যে কুকুর ডাকে না, সে ঠিক কামড়ায় । ভৈরব বাস্তবিক শুভাল্পধ্যায়ী, তাই সে জানাইতে আসিয়াছিল, যদি সময় মত অকুস্থানে উপস্থিত হয়। সকার-বকাব চীৎকার করিয়া ফুট কৈ-মাগুব ঘরে আনিতে পারা যায় । ভৈরব নিজেও ইহাতে সাহায্য করিবে মনে করিয়া আসিয়াছিল। কিন্তু কৈ, কিছুই ত তাহার হইল না। গালিগালাজের ধার দিয়া কেহ গেল না। মনিব যদি বা একটা হুঙ্কার দিলেন, ভৃত্যটা তহবি ঠোঁটটুকু পৰ্য্যন্ত নাড়িল না, লাঠি আনিতে গেল। ভৈরব গরীব লোক , ফৌজদারীতে জড়াইবার মত তাহার সাহসও নাই, সঙ্কল্পও ছিল না। মুহূৰ্ত্তকাল পরেই সুদীর্ঘ বংশদও হাতে ভজুয়া ঘরের বাহির হইল এবং সেই লাঠি মাথায় ঠেকাইয়া দূর্ব হইতে রমেশকে নমস্কার করিয়া প্রস্থানের উপক্রম করিতেই ভৈবব অকস্মাৎ কঁাদিয়া উঠিয়া রমেশের দুই হাত চাপিয়া ধবিল—ওরে তোজো, যাস্নে । বাবা বমেশ, রক্ষে কর বাবা, আমি গরীব মানুষ একদওও বঁচিব না । রমেশ বিরক্ত হইয়া হাত ছাড়াইয লহল । তাহার বিস্ময়ের সীমা-পরিসীম। নাই। ভজুয়া অবাক হইয়া ফিলিয়া আসিয়া দাড়াইল । ভৈরব র্কাদ কঁদ স্বরে বলিতে লাগিল, এ কথা ঢাকা থাকবে না বাবা । বেণীবাবুর কোপে পড়ে তাহলে একb দিনও বঁচিব না। আমার ঘরদের পয্যন্ত জলে যাবে বাবা, ব্রহ্মা-বিষ্ণু এলেও রক্ষা করতে পারবে না । রমেশ ঘাড় হেঁট করিয়া স্তন্ধ হইয়া বসিয়া রহিল। গোলমাল শুনিয়া গোপাল সরকার খাতা ফেলিয়া ভিতরে আসিয়া দাড়াইয়াছিল । সে আস্তে আস্তে বলিল, কথাটা ঠিক বাৰু। রমেশ তাহারও কোন জবাব দিল না, শুধু হাত নাড়িয় ভজুয়াকে তাহার নিজের কাজে যাইতে আদেশ করিয়া নিজেও নিঃশবে ঘরে চলিয়া গেল । তাহার হৃদয়ের মধ্যে যে কি ভীষণ ঝঙ্কার আকারেই এই ভৈরব আচার্ধ্যের অপরিসীম ভীতি ও কাতরোক্তি প্রবাহিত হইতে লাগিল, তাহা শুধু আগুয্যামাই দেখিলেন Nissa