প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৯০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তামাক খাইতেছে এবং কাছে হালদার মহাশয় বসিয়া আছেন ; বোধ করি এই কথাই হইতেছিল। রমেশ কিছুমাত্র ভূমিকা না করিয়াই কহিল, জলাব বাধ আটকে রাখলে ত আর চলবে না, এখনি সেটা কাটিয়ে দিতে হবে। বেণী স্থকাটা হালদারের হাতে দিয়া মুখ তুলিয়া বলিলেন, কোন বাধটা ? রমেশ উত্তেজিত হইয়াই আসিয়াছিল, ক্রুদ্ধভাবে কহিল, জলার বাধ আর কট আছে বড়দা ? না কাটলে সমস্ত গায়ের ধান হেজে যাবে। জল বার করে দেবার ছকুম দিন । বেণী কহিল, সেই সঙ্গে দু-তিন শ' টাকার মাছ বেরিয়ে যাবে খবরটা রেখেচ কি ? এ টাকাটা দেবে কে ? চাধারা, না তুমি ? রমেশ রাগ সামলাইল্লা বলিল, চাধার। গরীব, তাব দিতে ত পারবেই না, আর আমিই বা কেন দেব সে ত বুঝতে পারিনে ! বেণী জবাব দিল, তা হলে আমরাই বা কেন এত লোকসান করতে যাব সে ত আমি বুঝতে পারিনে । হালদায়ের দিকে চাহিয়া বলিলেন, খুন্ডে, এমনি করে ভায় আমার জমিদার রাখবেন । ওহে রমেশ, হারামজাদারা সকাল থেকে এতক্ষণ এইখানে পড়েই মড়াকান্না কাদছিল । আমি সব জানি । তোমার সদরে কি দরোয়ান নেই ? তার পায়ের নাগরা-জুতো নেই ? যাও, ঘবে গিয়ে সেই ব্যবস্থা কর গে , জল আপনি নিকেশ হয়ে যাবে। বলিয়া বেণী হালদারের সঙ্গে একযোগে হি: হি: করিয়া নিজের রসিকতায় নিজে হাসিতে লাগিলেন। রমেশের আর সহ্য হইতেছিল না, তথাপি সে প্রাণপণে নিজেকে সংবরণ করিয়া বিনীতভাবে বলিল, তেবে দেখুন বড়দা, আমাদেব তিন ঘরের দুশ টাকার লোকসান বঁাচাতে গিয়ে গরীবদের সারা বছরের অন্ন মাবা যাবে। যেমন কলে হোক, পাঁচ-সাত হাজার টাকা তাদের ক্ষতি হবেই। বেণী হাতটা উন্টাইয়া বলিলেন, হ’ল হ’লই । তাদের পাঁচ হাজারই যাক, আর পঞ্চাশ হাজারই যাক, আমার গোট সদরটা কোপালেও ত দুটো পয়সা বার হবে না যে ও-শালাদের জন্যে দু-দুশ টাকা উড়িয়ে দিতে হবে ? রমেশ শেষ চেষ্টা করিয়া বলিল, এরা সারা বছর খাবে কি ? যেন ভারি হাসির কথা ! বেণী একবার এপাশ একবার ওপাশ হেলিয়া ছলিয়া, মাথা নাড়িয়া, হাসিয়া, থুথু ফেলিয়া, শেষে স্থির হইয়া কহিল, খাবে কি ? দেখবে ধ্যাটারা যে যার জমি বন্ধক রেখে আমাদের কাছেই ঢাকা ধার করতে ছুটে আসবে। ভায়া, মাথাটা একটু ঠাণ্ড করে চল, কৰ্ত্তারা এমনি করেই বাড়িয়ে গুছিয়ে এই যে একআধটুকরা উচ্ছিষ্ট ফেলে রেখে গেছেন, এই আমাদের নেড়ে-চেড়ে গুছিয়ে গাছিয়ে bూ8