প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্লী-সমাঞ্জ খেয়ে-দেয়ে আবার ছেলেদের জন্যে রেখে যেতে হবে । ওরা থাবে কি ? ধীর ঝঞ্জ করে খাবে। নইলে আর ব্যাটাদের ছোটলোক বলেচে কেন ? ঘূণায়, লজ্জায়, ক্রোধে, ক্ষোভে রমেশের চোখ-মুখ উত্তপ্ত হইয়। উঠিল, কিন্তু কণ্ঠস্বর শাস্ত রাখিয়াই বলিল, আপনি যখন কিছুই করবেন না বলে স্থির করেছেন, তখন এখানে দাড়িয়ে তর্ক করে লাভ নেই। আমি রমার কাছে চললুম, তার মত হ’লে আপনার একার অমতে কিছু হবে না । বেণীর মুখ গম্ভীর কইল, বলিলেন, বেশ, গিয়ে দেখ গে তার আমার মত ভিন্ন নয়। সে সোজা মেয়ে নয় ভায়া, তাকে ভোলানো সহজ নয়। আর তুমি ত ছেলেমানুষ, তোমার বাপকেও সে চোখের জলে নাকের জলে করে তবে ছেড়েছিল । কি বল খুড়ে ? খুড়োর মতামতের জন্য রমেশের কৌতুহল ছিল না । বেণীর এই অত্যন্ত অপমান কর প্রশ্নের উত্তর দিবারও তাঁহার প্রবৃত্তি হইল না , নিরুত্তরে বাহির হইয়া গেল । প্রাঙ্গণে তুলসীমূলে সন্ধ্যা-প্রদীপ দিয়া প্রণাম সাঙ্গ করিয়া রমা মুখ তুলিয়াই বিস্ময়ে অবাক হইয়া গেল। ঠিক স্বমুখে রমেশ দাড়াইয়। তাহার মাথার আঁচল গলায় জড়ানো। ঠিক যেন সে এইমাত্র রমেশকেই নমস্কার করিয়া মুখ তুলিল । ক্রোধের উত্তেজনায় ও উৎকণ্ঠায় মাসীর সেই প্রথম দিনের নিষেধ-বাক্য রমেশের স্মরণ ছিল না ; তই সে সোজা তিতরে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছিল এবং রমাকে তদবস্থায় দেখিয়া নিঃশব্দে অপেক্ষা করিতেছিল । দু'জনের মাসখানেক পরে দেখা । রমেশ কহিল, তুমি নিশ্চয়ই সমস্ত শুনেচ। জল বার করে দেবার জন্তে তোমার মত নিতে এসেছি । রমার বিশ্বয়ের ভাব কাটিয়া গেল, সে মাথায় আঁচল তুলিয়া দিয়া কহিল, সে কেমন করে হবে ? তা ছাড়া বড়দার মত নেই। নেই জানি। তার একলার অমতে কিছুই আসে যায় না । রম একটুখানি ভাবিয়া কহিল, জল বার করে দেওয়াই উচিত বটে, কিন্তু মাছ আটকে রাখার কি বন্দোবস্ত করবেন ? রমেশ কহিল, অত জলে কোন বন্দোবস্ত হওয়া সম্ভব নয়। এ বছর সে টাকাটা আমাদের ক্ষতি স্বীকার করতেই হবে । না হলে গ্রাম মারা যায়। রম চুপ করিয়া রহিল। রমেশ কহিল, তা হলে অনুমতি দিলে ? রমা মৃদুকণ্ঠে বলিল, না, অত টাকা লোকসান আমি করতে পারব भः । রমেশ বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হইয়া গেল । সে কিছুতেই এরূপ উত্তর আশা করে নাই। " 3br電 ناهسسة a