পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ বেণী ব্যস্ত এবং ক্রুদ্ধ হইয়া কহিল, সেই কথা বলতেই ত বলচি আকবর ! কার লাঠিতে তুষ্ট জখম হলি ? সেই ছোড়ার, না তার হিন্দুস্তানী চাকয়টার ? আকবরের ওষ্ঠপ্রান্তে ঈষৎ হাসি প্রকাশ পাইল। কহিল, সেই বেঁটে হিন্দুস্থানীটার ? সে ব্যাটা লাঠির জানে কি বড়বাৰু ? কি বলিস্ রে গহর, তোর পয়লা চোটেই সে বসেছিল না রে ? আকবরের দুই ছেলেই অদূরে জড়সড় হইয়া বসিয়াছিল। তাহারাও অনাহত ছিল না । গহর মাথা নাড়িয়া সায় দিল, কথা কহিল না। আকবর কহিতে লাগিল, আমার হাতের চোট পেলে সে ব্যাটা বঁাচত না। গহরের লাঠিতেই ‘বাপ করে বসে পড়ল, বড়বাৰু! রম উঠিয়া আসিয়া অনতিদূরে দাড়াইল। আকবর তাহাদের পিতৃপুরের প্রজ, সাবেক দিনের লাঠির জোরে অনেক বিষয় হস্তগত করিয়া দিয়াছে। তাই আজি সন্ধ্যার পর ক্রোধে ও অভিমানে ক্ষিপ্তপ্রায় হইয়া রম তাহাকে ডাকাইয়া আনিয়া বাধ পাহার দিবার জন্য পাঠাইয়া দিয়াছিল এবং তাল করিয়া একবার দেখিতে চাহিয়াছিল, রমেশ শুধু সেই হিন্দুস্থানীটার গায়ের জোরে কেমন করিয়া কি কবে । সে নিজেই যে এতবড় লাঠিয়াল, একথা রম স্বপ্নেও কল্পনা করে নাই। আকবর রমার মুখের প্রতি চাহিয়া বলিল, তখন ছোটবাবু সেই ব্যাটার লাঠি তুলে নিয়ে বাধ আটক করে দাঁড়াল দিঠিাকরান, তিন বাপ-ব্যাটায় মোরা হটাতে নরলাম। আঁধারে বাঘের মত তেনার চোখ জলাত লাগল। কইলেন, আকবর, বুড়োমানুষ তুই, সরে যা । বাধ কেটে না দিলে সারা গায়ের লোক মারা পড়বে, তাই কেটতেই হবে । তোর আপনার গায়েও ত জমিজমা আছে, সম্ঝে দেখরে, সব বরবাদ হয়ে গেলে তোর ক্যামন লাগে ? মুই সেলাম করে কইলাম, আল্লার কিরে ছোটবাবু, তুমি একটিবার পথ ছাড় । তোমার আড়ালে দাড়িয়ে ঐ যে ক’য় সম্মুন্দি মুয়ে কাপড় জড়ায়ে ঝপাঝপ কোদাল মারচে, ওদের মুণ্ডু কটা ফাক করে দিয়ে যাই! বেণী রাগ সামলাইতে না পারিয়া কথার মাঝখানেই চেচাইয়া কহিল, বেইমান ব্যাটারা—তাকে পেলাম বাজিয়ে এসে এখানে চালাকি মারা হচ্চে— তাহারা তিন বাপ-বেটাই একেবারে একসঙ্গে হাত তুলিয়া উঠিল। আকবর কর্কশকণ্ঠে কহিল, খবরদার বড়বাবু, বেইমান কয়ে না। মোরা মোছলমানের ছালে, লব সইতে পারি-ও পারি না। কপালে হাত দিয়া থানিকট রক্ত মুছিয়া ফেলিয়া রমাকে উদ্দেশ করিয়া কহিল, কারে বেইমান কয় দিদি ? ঘরের মধ্যি বসে বেইমান কইচ বড়বাবু, চোখে দেখলি জানতি পারতে ছোটবাবু কি ? §brķr