প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/১৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১২ ছেলেবেলায একদিন রমেশ রমাকে ভালবাসিয়াছিল। নিতান্ত ছেলেমামুৰী ভালোবাসা তাঁহাতে সন্দেহ নাই, কিন্তু সে যে কত গভীব সেদিন তারকেশ্বরে ইহা সে প্রথম অনুভব করিয়াছিল এবং সৰ্ব্বাপেক্ষ বেশি কবিয়াছিল যেদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে বৃমার সমস্ত সম্বন্ধ সে একেবারে ভূমিসাৎ করিয়া দিয়া চলিবা আসিয়াছিল। তারপরে সেই নিদাঞ্চণ রীত্রির ঘটনার দিন হইতে রমর দিকটাই একেবারে রমেশের কাছে মহামরুর ন্যয শূন্য ধু ধূ করিতেছিল। কিন্তু সে যে তাহার সমস্ত কাজ-কৰ্ম্ম, শোষা-বসা, এমন কি, চিন্ত-অধ্যয়ন পর্য্যন্ত এমন বিস্বাদ কবিয়া দিবে, তাহ রমেশ কল্পনা ও কবেন নাই। তাহাতে গৃহ-বিচ্ছেদ এবং সৰ্ব্বব্যাপী অনাত্মীযতায় প্রাণ যখন তাহার এক মুহূৰ্ত্ত আর গ্রামেব মধ্যে তিষ্ঠিতে চাহিতেছিল না, তখন নিম্নলিখিত ঘটনায সে আর একবাব সোজা হইয়া বসিল । খালের ওপারে পরপুর গ্রাম তাঁহাদেরই জমিদাবী । এখানে মুসলমানেব সংখ্যাই অধিক । একদিন তাহারা দল বাধিয়া রমেশের কাছে উপস্থিত হইল , এই বলিয়৷ নালিশ জানাইল যে, যদিও তাহাবা তাহদেরই প্রজ, তথাচ তাহদের ছেলেপিলেকে মুসলমান বলিয গ্রামের স্কুলে ভর্তি হইতে দেওধা হয় না। কয়েকবার চেষ্টা করিয৷ তাহাবা বিফলমনোরথ হইযাছে, মাস্টার মহাশষবা কোনমতেই তাহাদের ছেলেদের গ্রহণ করেন না। রমেশ বিস্মিত ও ক্রুদ্ধ হইযা কহিল, এমন অন্যায় অত্যাচার ত কখনও শুনিনি । তোমাদেব ছেলেদের আঙ্গিই নিয়ে এসে, আমি নিজে দাড়িয়ে থেকে ভক্তি করে দেব। তাহারা জনাইল, যদিচ তাহারা প্রজা বটে, কিন্তু খাজনা দিয়াই জমি ভোগ করে। সেজন্য ছিদ্ধর মত জমিদারকে তাহারা ভয় করে না, কিন্তু এক্ষেত্রে বিবাদ কবিয়াও লাভ নাই। কারণ, ইহাতে বিবাদই হইবে, যথার্থ উপকার কিছুই হইবে না। বরঞ্চ তাহারা নিজেদের মধ্যে একটা ছোট রকমের স্কুল করিতে ইচ্ছা করে এবং ছোটবাবু একটু সাহায্য করিলেই হয। কলং-বিবাদে রমেশ নিজেও ক্লাস্ত হইয়া পড়িয়াছিল, সুতরাং হস্থাকে আর বাড়াইয়া না তুলিয়া ইহাদের পরামর্শ স্বযুক্তি বিবেচনা করিয়া সায় দিল এবং তখন হইতে এই নূতন বিদ্যালয প্রতিষ্ঠা করতেই ব্যাপৃত হইল। ছহীদের সম্পর্কে আসিয। রমেশ শুধু যে নিজেকে স্বস্থ বোধ করিল তুহো নহে, এই একটা বৎসর ধরিয়া তাহার যত বলক্ষয় হইয়tছল, তাহ ধীরে ধীরে যেন ভরিয়া আসিতে লাগিল । রমেশ দেখিল, কুঁয়াপুরের হিন্দুপ্রতিবেশীর মত ইহারা প্রতি কৰায় বিবাদ করে না, কৰিলেও তাহারা প্রতি হাত এক নম্বর ক্লজু করিয়া দিবার জন্ত সদরে ছুটিয়া যায় না। ఉ