প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“ब्र९-जाहिज्रा-नराम्रैई আৰ্ত্তকে রক্ষা করে না, শুধু বিপন্ন করে, তাহাকেই সমাজ বলিয়া কল্পনা করার মহাপাপ তাহাদিগকে নিয়ত রসাতলের পথেই টানিয়া নামাইতেছে। রমেশ আরও কিছুক্ষণ স্থিকভাবে বসিয়া থাকিয়া সহসা যেন ধাক্কা খাইয়া উঠিয়া পড়িল এবং তৎক্ষণাৎ সমস্ত টাকাটার একখানা চেক লিখিয়া গোপাল সরকারে হাতে দিয়া কহিল, আপনি সমস্ত বিষয় নিজে ভাল কবে জেনে টাকাটা জমা দিয়ে দেবেন এবং যেমন কবে হোক পুনবিচাবের সমস্ত বন্দোবস্ত ঠিক করে আসবেন। এমন ভয়ংকর অত্যাচার করবার সাহস তাদেব আব যেন কোন দিন না হয়। চেক হাতে করিয়া গোপাল সরকার ও ভৈরব উভয়ে কিছুক্ষণ যেন বিহালের মত চাহিয়া রহিল। রমেশ পুনৰ্ব্বাপ যখন নিদের বক্তব্য ভাল করিয়া বুঝাইয়া কহিল এবং সে যে তামাশা করিতেছে না ও নিঃসন্দেহে যখন বুঝা গেল, অকস্মাৎ ভৈরব ছুটিয়া আসিয়া পাগলের ন্যায় রমেশের দুই-পা চাপিয়া ধরিয়া কাদিয়া, চেচাইয়া, আশীৰ্ব্বাদ করিয়া এমন কাণ্ড করিয়া তুলিল যে রমেশের অপেক্ষ অল্প বলশালী লোকের পক্ষে নিজেকে মুক্ত করিয়া লওয়া সেদিন একটা কঠিন কাজ হইত। কথাটা গ্ৰামময় প্রচারিত হইতে বিলম্ব ঘটিল না। সকলেই বুঝিল বেণী এবং গোবিন্দ এবার সহজে নিস্কৃতি পাইবে না। ছোটবাবু যে র্তাহাৰ চিরশত্রুকে হাতে পাইবার জন্যই এত টাকা হাতছাড়া করিয়াছে, তাহা সকলেই বলাবলি করিতে লাগিল। কিন্তু এ কথা কাহারও কল্পনা করাও সম্ভবপর ছিল না যে, দুৰ্ব্বল ভৈরবের পরিবর্তে ভগবান তাহারই মাথার উপর এই গভীব দুষ্কৃতির গুরুভার তুলিযা দিলেন যে তাহা স্বচ্ছনে বহিতে পরিবে । তারপর মাসখানেক গত হইয়াছে। ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে মনে মনে যুদ্ধ ঘোষণা করিয়া রমেশ এই একটা মাস তাহার যন্ত্রতন্ত্র লইয়া এমনই উৎসাহের সহিত নানাস্থানে মাপ-জোপ করিয়া ফিরিতেছিল যে, আগামী কালই যে ভৈরবের মোকদ্দমা তাহ প্রায় ভুলিয়াই গিয়াছিল। আজ সন্ধ্যার প্রাকালে অকস্মাৎ সে-কথা মনে পড়িয়া গেল রোশনচোঁকির সানায়ের স্বরে । চাকবের কাছে সংবাদ পাইয়া রমেশ আশ্চৰ্য্য হইয়া গেল যে, আজ ভৈরব আচায্যের দৌহিত্রেব অন্নপ্রাশন। অথচ সে ত কিছুই জানে না। শুনিতে পাইল, ভৈরব আয়োজন মন্দ করে নাই। গ্রামস্বদ্ধ সমস্ত লোককেই নিমন্ত্ৰণ করিয়াছে, কিন্তু রমেশকে কেহ নিমন্ত্ৰণ করিতে আসিয়াছিল কি না সে খবর বাড়িতে কেহই দিতে পারিল না । শুধু তাঁহাই নয়, তাহার স্মরণ হইল, এত বড় একটা মামল ভৈরবের মাথার উপর আসন্ন হইয়া থাকা সত্বেও সে প্রায় কুড়ি-পঁচিশ দিনের মধ্যে একবার সাক্ষাৎ পৰ্যন্ত করিতে আসে নাই। ব্যাপার কি ? কিন্তু এমন কথা তাহার মনে উদয় হুইয়াও হইল না যে, সংসারের সমস্ত লোকের মধ্যে ●