প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্লী-সমাজ কেঙ্ক নাই। ভিতরে প্রবেশ করিল। তখন আচাৰ্য্য-গৃহিণী সন্ধ্যাদীপ-হাতে প্রাঙ্গণের তুলসীমঞ্চমূলে আসিতেছিলেন ; অকস্মাৎ রমেশকে স্বযুখে দেখিয়া একেবারে জড়সড় হইয়া গেলেন। সে কখনও আসে না, আজ কেন আসিয়াছে তাহা মনে করিতেই ভয়ে তাহার হৃৎপিণ্ড কণ্ঠের কাছে ঠেলিয়া আসিল । রমেশ তাহাকেই প্রশ্ন করিল, আচাযিামশাই কই ? গৃহিণী অব্যক্তস্বরে যাহা বলিলেন তাহা শোনা গেল না বটে, কিন্তু বুঝা গেল তিনি ঘরে নাই। রমেশের গায়ে একটা জামা অবধি ছিল না। সন্ধ্যার অস্পষ্ট আলোকে তাছার মুখও ভাল দেখা যাইতেছিল না। এমন সময়ে ভৈরবের বড়মেয়ে লক্ষ্মী ছেলে-কোলে গুহের বাহির হইয়াই এই অপরিচিত লোকটাকে দেখিয়া মাকে জিজ্ঞাসা করিল, কে মা ? তাহার জননী পরিচয় দিতে পারিলেন না, রমেশও কথা কহিল না। লক্ষ্মী তয় পাইয়া চেচাইয়া ডাকিল, বাবা, কে একটা লোক উঠানে এসে দাড়িয়েচে, কথা কয় না । কে রে ? বলিয়। সাড়া দিয়া তাহার পিতা ঘরের বাহিরে আসিয়াই একেবারে কাঠ হইয়া গেল। সন্ধ্যার মান ছায়াতেও সেই দীর্ঘ ঋজু দেহ চিনিতে তাহার বাকী রহিল না । রমেশ কঠোরহুরে ডাবি ল— নেমে আইন, বলিয়া তৎক্ষণাৎ নিজেই উঠিয়া গিয়া বজ্ৰমুষ্টিতে ভৈরবের একটা হাত ধরিয়া ফেলিল। কহিল, কেন এমন কাজ করলেন ? ভৈরব কাদিয়া উঠিল, মেরে ফেললে রে লক্ষ্মী, বেণীবাবুকে খবর দে । সঙ্গে সঙ্গে বাড়িম্বদ্ধ ছেলেমেয়ে চেচাইয়া কাদিয়া উঠিল এবং চোখের পলকে সন্ধ্যার নীরবতা বিদীর্ণ করিয়া বহুকষ্ঠের গগনভেদী কান্নার রোলে সমস্ত পাড়া ত্রস্ত হইয়া উঠিল । রমেশ তাহাকে একচ প্রচণ্ড কাকুনি দিয়া কহিল, চুপ! বলুন, কেন এ কাজ করলেন ? ভৈরব উত্তর দেবার চেষ্টামাত্র না করিয়া একভাবে চীৎকার করিয়া গলা কটাইতে লাগিল এবং নিজেকে মুক্ত করিবার জন্য টানা-হেঁচড়া করিতে লাগিল । দেখিতে দেখিতে পাড়ার মেয়ে পুরুষে প্রাঙ্গণ পরিপূর্ণ হইয়া গেল এবং তামাশা দেখিতে আরও বহু লোক ভিড় করিয়া ভিতরে ঢুকিতে ঠেলাঠেলি করিতে লাগিল । কিন্তু ক্রোধান্ধ রমেশ সে দিকেই লক্ষ্য করিল না। শত চক্ষুর কৌতুহলী দৃষ্টির সম্মুখে দাড়াইয়া সে উন্মত্তের মত ভৈরবকে ধরিয়া একভাবে নাড়া দিতে লাগিল। একে রমেশের গায়ের জোর অতিরঞ্জিত হইয়া প্রবাদের মত দাড়াইয়াছিল, তাহাতে তাহার চোখের পানে চাহিয়া এই একবাড়ি লোকের মধ্যে এমন সাহস কাহারও হুইল ३e *ी