প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ না যে, হতভাগ্য ভৈরবকে চ ডাইয়া দেয় । গোবিন্দ বাড়ি ঢুকিয়াই ভিডের মধ্যে ণিশিয়া গেলেন। বেশী উকি মারিয়াই সরিতেছিলেন, ভৈবধ দেখিতে পাইযা কাদিয়া উঠিল—বড়বাবু বড়বাবু বডবাবু কিন্তু কৰ্ণপাতও করিল না, চোখের নিমিষে কোথায় মিলাইযা গেল । সহসা জনতার মধ্যে একটুখানি পথের মত হইল, পরক্ষণেই রমা দ্রুতপদে আসিয়া রমেশের হাত চাপিয়া ধরিল, কহিল, হযেচে—এবার ছেড়ে দাও । রমেশ তাহার প্রতি অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া কহিল, কেন ? রম দাতে দাত চাপিমা অক্ষু-ক্রুদ্ধকণ্ঠে বলিল, এত লোকের মাঝখানে তোমাব লজ্জা করে না, কিন্তু আমি যে লজ্জায় মরে যাই । রমেশ প্রাঙ্গণপূর্ণ লোকের পানে চাহিয়৷ তৎক্ষণাৎ ভৈরবের হাত ছাড়িয়া দিল । রম তেমনি মৃত্নস্বরে কছিল, বাড়ি যাও । রমেশ দ্বিরুক্তি না কবিয়া বাহিব হইয়া গেল। হঠাৎ এ যেন একটা ভোজবাজি হইয়া গেল। কিন্তু সে চলিয়া গেলে রমার প্রতি তাহার এই নিরতিশয় বাধ্যতায় সবাই যেন কি একরকম মুখ চাওয়া-চাওয়ি করিতে লাগিল এবং এমন জিনিসটার এত আড়ম্বরে আরম্ভ হইয়া এভাবে শেষ হইষ যাওযাটা পড়ার লোকেক কাহাবও যেন মনঃপুত হইল না। লোকজন চলিয়া গেল। গোবিন্দ গাজুলী আত্মপ্রকাশ করিয়া একটা আঙ্গুল তুলিয়া মুখখান অতিরিক্ত গভীর করিয়া কহিল, বাড়ি চড়াও হয়ে যে আধমরা করে দিয়ে গেল, এর কি করবে সেই পরামর্শ করে। ভৈরব দুই-ইটু বুকের কাছে জড় করিয়া বসিয়া হাপাইতেছিল, নিরুপায়ভাবে বেণীর মুখপানে চাহিল। রম তখনও যায নাই। বেণীর অভিপ্রায় অনুমান করিয়া তাড়াতাড়ি কহিল, কিন্তু এ পক্ষের দোষও ত কম নেই বডদা ? তা ছাড হয়েচেই বা কি যে এই নিয়ে হৈ-চৈ করতে হবে। বেণী ভয়ানক আশ্চৰ্য্য হইয়া কহিল, বল কি রমা ! ভৈরবের বড় মেয়ে তখনও একটা খুটি আশ্রয় করিয়া দাড়াহয়৷ কাদিতেছিল। সে দলিত ফৰ্ণিনীর মত একবার গর্জাইয়া উঠিল, তুমি ত ওর হয়ে বলবেহ রমাদিদি। তোমার বাপকে কেউ ঘরে ঢুকে মেরে গেলে কি করতে বল ত ? তাহার গর্জনে রম প্রথমটা চমকিয় গেল। সে যে পিতার মুক্তির জন্য কৃতজ্ঞ নয়—তা না হয় নাই হইল, কিন্তু তাছার তীব্রতার ভিতর হইতে এমন একটা কটু শ্লেষের র্যাজ আসিয়া বামার গায়ে লাগিল যে সে পরফুর্তেই অলিয়া উঠিল। কিন্তু আত্মসংবরণ করিয়া কহিল, আমার বাপ ও তোমার বাপে অনেক তফাৎ Հ են,