পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্লী-সমাজ লক্ষ্মী, তুমি সে তুলনা ক’রো না , কিন্তু আমি কারও হয়েই কোনও কথা বলিনি, ভালর জন্তেই বলেছিলাম । লক্ষ্মী পাড়াগাযের মেয়ে, ঝগড়ায অপটু নহে। সে তাড়িঘা আসিয| বলিল, বটে । ওর হযে কোদল করতে তোমার লজ্জা কলে ন! ? বড়লোকের মেয়ে বলে কেউ ভয়ে কথা কষ ন!—নইলে কে না শুনেচে ? তুমি বলে তাই মুখ দেখাও, আবে কেউ হলে গলায় দড়ি দিত। বেণী লক্ষ্মীকে একটা তাড়া দিয বলিল, তুই থাম না লক্ষ্মী । কাজ কি ও-সব কথায় ? লক্ষ্মী কহিল, কাজ নেই কেন ? যাব জন্যে বাবাকে এত দুঃখ পেতে হ’ল, তাব হযেই উলি কোদল করবেন ? বাবা যদি মারা যেতেন ? রুমা নিমিষের জন্য স্তম্ভিত হইয়া গিয়াছিল মাত্র । বেণীব কৃত্রিম ক্রোধের স্বর তাহাকে আবার প্রজ্বলিত করিয়া দিল । সে লক্ষ্মীর প্রতি চাহিয। কহিল, লক্ষ্মী, ওর মত লোকের হাতে মরতে পাওযাও ভাগ্যের কথা , আজ মাব পড়লে তোমার বাবা স্বর্গে যেতে পারত। লক্ষ্মীও জলিয়া উঠিয়া কহিল, ও তাইতেই বুঝি তুমি মরেচ কমাদিদি ? রম আব জবাব দিল না। তাহার দিক হইতে মুখ ফিরাইয়া লইয়া বেণীর প্রতি চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিল, কিন্তু কথাটা কি তুমিই বল ত বডদা ? বলিয়া সে একদুষ্টে চাহিমা রহিল। তাহাব দৃষ্টি যেন অন্ধকার ভেদ কবিয়া বেণীর বুকের ভিতর পর্য্যন্ত দেখিতে লাগিল । বেণী ক্ষুব্ধভাবে বলিল, কি করে জানব বোন । লোকে কত কথা বলে—তাতে কান দিলে ত চলে না । লোকে কি বলে ? বেণী পরম তাচ্ছিল্যভাবে কহিলেন, বললেই বা বম, লোকের কথাতে ত আর গায়ে ফোস্কা পড়ে না , বলুক না। তাহার এই কপট সহানুভূতি রমা টের পাইল। এক মুহূৰ্ত্ত চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, তোমার গায়ে হয়ত কিছুতেই ফোস্কা পড়ে না, কিন্তু সকলের গায়েত গণ্ডারের চামড়া নেই। কিন্তু লোককে একথা বলাচ্চে কে ? তুমি ? আমি ? রমা ভিতরের দুনিবার ক্রোধ সংবরণ করিয়া বলিল, তুমি ছাড়া আর কেউ নয়। পৃথিবীতে কোন দুষ্কৰ্ম্মই ত তোমার বাকী নেই—চুরি, জুয়াচুরি, জাল, ঘরে আগুন দেওয়া সবই হয়ে গেছে, এটাই বা বাকি থাকে কেন ? বেণী হতবুদ্ধি হইয়া হঠাৎ কথা কহিতেই পারিল না। ) ۹ دسیسه