প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ গোবিন্দ রসান দিয়া কহিলেন, তোদের বুকের পাট শুধু দেখচি আমরা ! মায়ের প্রসাদ পেতেও কেউ তোরা এলিনি, বলি কেন বল ত রে ? বুড়ো একটুখানি হাসিযা কহিল, আর বুকের পাট ! যা করবার সে ত আপনারা আমার করেচেন। সে যাক, কিন্তু মাযের প্রসাদই বলুন আর যাই বলুন, কোন কৈবর্তই আর বামুন-বাড়িতে পাত পাতবে না। এত পাপ যে মা বহুমতী কেমন করে সইচেন, তাই অমর কেবল বলবলি করি, বলিয়া একটা নিশ্বাস ফেলিয়া সনাতন রূমাব প্রতি চাহিয়| কহিল, একটু সাবধানে থেকে দিদিঠাকরুন, পিয়পুরের মোচলমান ছোড়ার একেবাবে ক্ষেপে বয়েচে । ছোটবাবু ফিরে এলে যে কি কাণ্ড হবে তা ঐ মা দুর্গাই জানে। এর মধ্যেই দু-তিনবার তারা বড়বাবুর বাড়িব চারপাশে ঘুরে ফিরে গেছে-সামনে পায়নি তাই রক্ষে, বলিয়া সে বেণীর দিকে চাহিল। চক্ষের নিমেষে বেণীর ক্রুদ্ধ মুখ ভয়ে বিবর্ণ হইয়া গেল। সনাতন কহিতে লাগিল, ঠাকুরের স্বমুখে মিথ্যে বলচিনে বড়বাবু, একটু সামলেস্বমলে থাকবেন । রাত-বিরেতে বার হবেন না—কে কোথায় ওত পেতে বসে থাকবে বলা যায় না ত ! বেণী কি একটা বলিতে গেল, কিন্তু মুখ দিয়া কথা বাহির হইল না ! তাহার মত ভীতু লোক বোধ করি সংসারে ছিল না। এতক্ষণে রমা কথা কহিল। স্নেহদ্র-কঞ্চণকণ্ঠে প্রশ্ন করিল, সনাতন, ছোটবাবুর জন্যেই বুঝি তোমাদের এত সব বাগ ? সনাতন প্রতিমার দিকে একবার দৃষ্টিপাত করিয কহিল, মিথ্যে বলে আর নরকে যাব কেন দিদিঠাকরুন, তাই বটে ! মোচলমানদের রাগটাই সবচেয়ে বেশী। তারা ছোটবাবুকে হিন্দুদের পয়গম্বর মনে করে। তার সাক্ষী দেখুন আপনারা—জাফর আলি, আঙুল দিয়ে যার জল গলে না, সে ছোটবাবুর জেলের দিন তাদের ইস্কুলের জন্যে একটি হাজার টাকা দান করেচে। শুনি মসজিদে র্তার নাম কবে নাকি নেমাজপড়া পৰ্য্যন্ত হয়। রমার শুষ্ক মান মুখখানি অব্যক্ত আনন্দে উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল। সে চুপ করিয়া প্রদীপ্ত নির্নিমেষ চোখে সনাতনের মুখের পানে চাহিয়া রহিল। বেণী অকস্মাৎ সনাতনের হাত চাপিয়া ধরিয়া কহিল, তোকে একবার দারোগার কাছে গিয়ে বলতে হবে সনাতন। তুই যা চাইবি তাই তোকে দেবো, দু-বিঘে জমি ছাড়িয়ে নিতে চাস্ ত তাই পাবি, ঠাকুরের সামনে দাড়িয়ে দিবি করচি সনাতন, বামুনের কথাটা রাখ । সনাতন বিন্মিতের মত কিছুক্ষণ বেণীর মুখপানে চাহিয়া থাকিয়া কহিল, আর ক'ট দিন বা বাচব বড়বায়ু লোভে পড়ে যদি এ কাজ করি, মরলে আমাকে שלא