পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২২৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সে বলে গেছে এর পথেও বেণী সাবধান না হলে সে নিজে আব কখনো ফিরুক, না ফিরুক, এই মারই তার শেষ মায় নয। রম আস্তে আস্তে বলিল, তার মানে আবও লোক পিছনে আছে, কিন্তু আমাদের দেশে ছোটলোকদের এত সাহস ত কোনদিন ছিল না জ্যাঠাইমা, কোথা থেকে এ সাহস তারা পেল ? বিশ্বেশ্ববী মৃদ্ধ হাসিয়া কহিলেন, সে কি তুই নিজে জানিদনে মা, কে দেশের এই ছোটলোকদের বুক এমন করে ভরে দিয়ে গেছে ? আগুন জলে উঠে শুধু শুধু নেবে না রমা ! তাকে জোব করে নেবালেও সে আশে-পাশের জিনিস তাতিয়ে দিষে যায়। সে আমার ফিরে এসে দীর্ঘজীবী হযে যেখানে খুশি সেখানে যাক, বেণীর কথা মনে করে আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলব না। কিন্তু বল সত্ত্বেও বিশ্বেশ্বরী যে জোর করিয়াই একটা নিশ্বাস চাপিয়া ফেলিলেন, তাহ রম। টের পাহল। তাই র্তাহার হাতখানি বুকের উপর টানিয়া লইয়। স্থিব হত্যা রহিল। একটুখানি সামলাইয লইয়া বিশ্বেশ্বরী পুনশ্চ কছিলেন, রম, এক সন্তান যে কি, সে শুধু মায়েই জানে। বেণীকে যখন তারা অচৈতন্য অবস্থায ধরাধরি করে পালকিতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেল, তখন যে আমার কি হযেছিল, লে তোমাকে আমি বোঝাতে পারব না। কিন্তু তবুও আমি কারুকে একটা অভিসম্পাত বা কোন লোককে আমি দোষ দিতে পৰ্য্যন্ত পারিনি। এ কথা ত ভুলতে পারিনি মা যে এক সন্তান বলে ধৰ্ম্মের শাসন ত মায়েব মুখ চেযে চুপ করে থাকবে না। রম একটুখানি ভাবিয়া কহিল, তোমাব সঙ্গে তর্ক কয়চিনে জ্যাঠাইমা, কিন্তু এই যদি হ্য, তবে রমেশদ কোন পাপে এ দুঃখ ভোগ করচেন ? আমরা যা করে তাকে জেলে পুরে দিযে এসেচি, সে ত কারো কাছেই চাপা নেই। জ্যাঠাইমা বলিলেন, না মা, তা নেই । নেই বলেই বেণী আজ হাসপাতালে। আর তোমার—, বলিযা তিনি সহসা থামিয় গেলেন। যে কথা তাহার জিহ্বাগ্রে আসিয়া পণ্ডিল, তাহা জোক কবিয়া ভিতরে ঠেলিয়া দিযা কহিলেন, কি জানিল মা, কোন কাজই কোন দিন শুধু শুধু শূন্তে মিলিয়ে যায না। তার শক্তি কোথাও না কোথাও গিয়ে কাজ করেই। কিন্তু কি ক’রে করে, তা সকল সময়ে ধরা পড়ে না বলেই আজ পর্য্যন্ত এ সমস্তার মীমাংসা হতে পারল না, কেন একজনের পাপে আর একজন প্রায়শ্চিত্ত করে । কিন্তু করতে যে হ্য রম, তাতে ত লেশমাত্র সন্দেহ নাই । রমা নিজের ব্যবহার স্মরণ করিয়া নীরবে নিশ্বাস ফেলিল। বিশ্বেশ্বরী বলিতে লাগিলেন, এর থেকে আমারও চোখ ফুটছে রম, ভাল করব বললেই ভাল করা স্বায় না। গোড়ার অনেকগুলো ছোট-বড় সিডি উত্তীর্ণ হবার ধৈর্ঘ্য থাকা চাই। একদিন রমেশ হতাশ হয়ে আমাকে বলতে এসেছিল, জ্যাঠাইম, আমার কাজ নেই ११९