পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্লী-সমাজ মনে এক মুখে জার করতে পারিনে। মনের তাব আর পাঁচজনের মত ঢেকে রাখতে পারিনে বলে কত শাস্তিই যে ভোগ করতে হয়, কিন্তু তবু ত আমার চৈতন্ত হ’ল না। রমেশ চুপ করিয়া শুনিতেছে দেখিয়া বেশী কণ্ঠস্বর আরও মৃদ্ধ ও গভীর করিয়৷ কহিতে লাগিলেন, আমার দোষের মধ্যে সেদিন মনের কষ্ট জার চাপতে না পেবে কাদতে কাদতে বলে ফেলেছিলাম, রম, আমরা তোর এমন কি অপরাধ করেছিলাম যে, এই সৰ্ব্বনাশ আমাদের কয়লি ! জেল হয়েছে শুনলে যে মা একেবারে প্রাণবিসর্জন করবেন । আমরা ভায়ে ভায়ে বিষয় নিয়ে ঝগড়া করি—যা করি, কিন্তু তবু ত সে আমার ভাই ! তুই একটি আঘাতে আমার ভাইকে মারলি, মাকে মারলি ! কিন্তু নির্দোষীয় ভগবান আছেন। বলিয়া সে গাড়ির বাহিরে জাঙ্কাশের পানে চাহিয়া আর একবার যেন নালিশ জানাইল । রমেশ যদিও এ অভিযোগে যোগ দিল না, কিন্তু মন দিয়া শুনিতে লাগিল। বেশী একটু থামিয়া কহিল, রমেশ, রমার সে উগ্ৰমূৰ্ত্তি মনে হলে এখনো হংকম্প হয়, দাতে দাতে ঘষে বললে, বমেশের বাপ আমার বাপকে জেলে দিতে যায়নি ? পারলে ছেড়ে দিত বুঝি ? মেয়েমানুষের এত দৰ্প সহ হ’ল ন রমেশ ! আমিও রেগে বলে ফেললাম, আচ্ছা ফিরে আমুক সে, তার পথে এর বিচার হৰে। এতক্ষণ পৰ্য্যন্ত রমেশ বেণীর কথাগুলো মনের মধ্যে ঠিকমত গ্রহণ করিতে পারিতেছিল না। কবে তাহার পিতা রমার পিতাকে জেলে দিবার আয়োজন করিয়াছিলেন, তাহা সে জানে না। কিন্তু ঠিক এই কথাটিই সে দেশে পা দিয়াই রমার মাসীর মুখে শুনিয়াছিল, তাছার মনে পড়িল । তখন পবের ঘটনা শুনিবার জন্য সে উৎকীর্ণ হইয়া উঠিল । বেণী তাহ লক্ষ্য করিয়া কহিল, খুন করা তাহার অভ্যাস আছে ত । আকবর লেঠেলকে পাঠিয়েছিল মনে নেই ? কিন্তু তোমার কাছে ত চালাকি খাটেনি, বরঞ্চ তুমিই উন্টে শিখিয়ে দিয়েছিলে। কিন্তু আমাকে দেখচত ? এই ক্ষণজীবী—বলিয়া বেণী একটু চিন্তা করিয়া লইয়া তুষ্ট কলুর ছেলের কল্পিত বিবরণ নিজের অন্ধকার অস্তরের ভিতর হইতে বাহির করিয়া আপনার ভাষায় ধীরে ধীরে গ্রথিত করিয়া বিবৃত করিল। রমেশ রুদ্ধনিশ্বাসে কহিল, তার পর ? বেণী মলিনমুখে একটুখানি হাসিয়া কহিল, তার পরে কি আর মনে আছে তাই ! কে কিসে ক’রে যে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে কি হ’ল, কে দেখলে, কিছুই জানিনে। দশ দিন পরে জ্ঞান হয়ে দেখলাম হাসপাতালে পড়ে আছি। এ-যাত্রা যে বৃক্ষে পেয়েচি সে কেবল মায়ের পুণ্যে—এমন মা কি জাহ্ম আছে রমেশ । ኟግ