প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ রমেশ একটা কথাও কহিতে পারিল না, কাঠের মূৰ্ত্তির মত শক্ত হইয়া বসিয়া রছিল। শুধু কেবল তাহার দশ অঙ্গুলি জড় হটয়া বজ্র-কঠিন মুঠায় পরিণত হইল। তাহার মাথায় ক্রোধ ও ঘৃণার যে ভীষণ বহ্নি জলিতে লাগিল, তাহার পরিমাণ করিবারও কাহারও সাধ্য রহিল না। বেণী যে কত মন্দ তাহা সে জানিত । তাহার অসাধ্য যে কিছুই নাই ইহাও তাহার অপরিজ্ঞাত ছিল না। কিন্তু সংসারে কোন মানুষই যে এত অসত্য এমন অসঙ্কোচে এরূপ অনর্গল উচ্চারণ করিয়া যাইতে পারে, তাহা কল্পনা করিবার মত অভিজ্ঞতা তাহার ছিল না। তাই কুমার সমস্ত অপরাধই সত্য বলিয়া বিশ্বাস করিল। সে দেশে ফিরিয়া আসায় গ্ৰামময় যেন একটা উৎসব বাধিয়া গেল। প্রতিদিন সকালে, দুপুরে এবং বাত্রি পর্য্যন্ত এত জনসমাগম, এত কথা, এত আত্মীয়তার ছড়াছড়ি পড়িয়া গেল যে, কারাবাসেব যেটুকু গ্লানি তাহাব মধ্যে অবশিষ্ট ছিল, দেখিতে দেখিতে তাহা উবিয়া গেল। তাহার অবর্তমানে গ্রামের মধ্যে যে খুব বড় একটা সামাজিক স্রোত ফিরিয়া গিয়াছে, তাহীতে কোন সংশয় নাই, কিন্তু এই কয়টা মাসের মধ্যেই এত বড় পবিবর্তন কেমন করিয়া সম্ভব হইল তাহা ভাবিতে গিয়৷ তাহার চোখে পড়িল, বেণীব প্রতিকূলতায় যে শক্তি পদে পদে প্রতিহত হইয়া কাজ করিতে পারিতেছিল না, অথচ সঞ্চিত হইতেছিল, তাহাই এখন তাহার অনুকূলতায় দ্বিগুণ বেগে প্রবাহিত হইয়াছে । বেণীকে সে আজ আরও একটু ভাল করিয়া চিনিল। এই লোকটাকে এরূপ অনিষ্টকারী জানিয়াও সমস্ত গ্রামের লোক যে তাহার কতদূর্ব বাধ্য, তাহা আজ সে যেমন দেখিতে পাইল এমন কোন দিন নয়। ইহারই বিরোধ হইতে পরিত্রাণ পাইযা রমেশ মনে মনে হুঁফ ছাডিয়া বঁচিল । শুধু তাই নয় রমেশের উপর অন্যায় অত্যাচারের জন্য গ্রামের সকলেক্ট মৰ্ম্মাহত, সে কথা একে একে সবাই তাহাকে জানাইয়া গিয়াছে। ইহাদের সমবেত সহাহভূতি লাভ করিয়া এবং ৰেণীকে সপক্ষে পাইয়া, আনন্দ উৎসাহে হৃদয় তাহাব বিস্ফারিত হইয়। উঠিল। ছয় মাস পূৰ্ব্বে যে-সকল কাজ আরম্ভ করিয়াই তাহকে ত্যাগ করিতে যাইতে হইয়াছিল, আবার পূর্ণোস্তমে তাঁহাতে লগিয়া পড়িবে সঙ্কল্প করিয়া রমেশ কিছুদিনের জন্য নিজেও এই সকল আমোদ-আহলাদে গা ঢালিয়া দিয়া সৰ্ব্বত্র ছোট-বড় সকল বাড়িতে সকলের কাছে সকল বিষয়ের খোঁজ-খবর লইয়া সময় কাটাইতে লাগিল। শুধু একটা বিষয় হইতে সে সৰ্ব্বপ্রযত্বে নিজেকে পৃথক করিয়া রাখিতেছিল—তাহা বুমার প্রসঙ্গ। সে পীড়িত তাহা পথে শুনিয়াছিল ; কিন্তু সে পীড়া যে এখন কোথায় উপস্থিত হইয়াছিল, তাহার কোন সংবাদ গ্রহণ করিতে চাহে নাই । তাহার সমস্ত সম্বন্ধ হইতে আপনাকে সে চিরদিনের মত বিচ্ছিন্ন করিয়া লইয়াছে, ইহাই তাহার ধারণা। গ্রামে আসিয়াই মুখে মুখে শুনিয়াছিল, শুধু এক রমাই যে তাহার সমস্ত -