প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পল্পী-সমাজ দুঃখের মূল তাহা সবাই জানে। স্বতরাং এইখানে বেণী যে মিথ্যা কথা কহে নাহ তাহাতে আব সন্দেহ বহিল না। দিন পাচ-ছয পরে বেণী আসিযা রমেশকে চাপিয়া ধরিল। পিরপুবেক একট বড় বিষয়ের অংশ বিভাগ লইযা বহুদিন হইতে বৃমার সহিত র্তাহাব প্রচ্ছন্ন মনোবিবাদ ছিল, এই সুযোগে সেটা হস্তগত কবিয লওয়া তাহার উদ্দেশ্য । বেণী বাহিবে যাই বলুক, সে মনে মনে কমাকে ভয় করিত। এখন সে শয্যাগত, মামলা-মোকদম কবিতে পারিবে না, উপবস্তু ৩iহাদেব মুসলমান গ্রঞ্জারাও বমেশের কথা ঠেলিতে পাবিবে না। পরে যাই হোক, আপাততঃ বে-দখল করিবার এমন অবসর অব মিলিবে না বলিযা সে একেবারে জিদ ধরিয়া বসিল । রমেশ আশ্চয্য হত্যা অস্বীক|ব কবিদ্ষ্টে বেণী বহু পঞ্চাধের যুক্তি প্রয়োগ করিযা শেষে কহিলেন, হবে না কেন ? বাগে পেযে সে কবে তোমাকে রেযৎ করেচে যে, তার অমুখের কথা তুমি ভাবতে যাচ্ছ ? তোমাকে যখন সে জেলে দিযেছিল, তখন তোমার অসুখই বা কোন কম ছিল ভাই । কথাটা সত্য । রমেশ অস্বীকার করিতে পাবিল না । তবু কেন যে তাহীর মন কিছুতেই তাহাব বিপক্ষতা করিতে চাহিল না—বেণীব সহস্ৰ কটু উত্তেজনা সত্ত্বেও বুমথ অসহায় পীডিত অবস্থা মনে করিতেই তাহাব সমস্ত পিবদ্ধ শক্তি সঙ্কুচিত হইয়। বিন্দুবৎ হইষা গেল, তাহাব সুস্পষ্ট হেতু সে নিজেও খুজিযা পাহল না। রমেশ চুপ করিয বহিল। বেণী কাজ হইতেছে জানিলে ধৈর্ঘ্য ধরিতে জানে। সে তখনকাব মত আর পীড়াপীডি না করিয়া চলিয় গেল। এবার অাব একটা জিনিস রমেশের বড় দুষ্ট আকর্ষণ করিয়াছিল। বিশ্বেশ্বরীর কোন দিনই সংসাবে যে বিশেষ আসক্তি ছিল না, তাহা সে পূৰ্ব্বেও জানিত, কিন্তু এবার ফিরিয৷ আসিযা সে অনাসক্তিটা যেন বিতৃষ্ণায পরিণত হইযাছে বলিধা তাহাব মনে হইতেছিল। কারাগাব হইতে অব্যাহতি লাভ করিয়া বেণীব সমভিব্যাহারে যেদিন সে-গুহে প্রবেশ কবিযাছিল, সেদিন বিশ্বেশ্বর আনন্দ প্রকাশ করিয়াছিলেন, সজলকামঃ বাৰংবার অসংখ্য আশীৰ্ব্বাদ করিয়ছিলেন, তথাপি কি যেন একটা তাহাতে ছিল, যাহাতে সে ব্যথাই পাইযাছিল। আজ হঠাৎ কথায় কথায় শুনিল বিশ্বেশ্বরী কণা-বাস সঙ্কল্প করিযী যাত্রা করিতেছেন, আর ফিরিবেন না, শুনিযা লে চমকিয়া গেল। কৈ সে ত কিছুই জানে না । নানা কাজে পাঁচ-ছদিনের মধ্যে র্তাহার সহিত সাক্ষাৎ হ্য নাই, কিন্তু যেদিন হইয়াছিল সেদিন ত তিনি কোন কথা বলেন মই যদিচ সে জানিত, তিনি নিজে হইতে আপনাব বা পরের কথা আলোচনা করিতে কোনদিন ভালবাসেন না, কিন্তু আজিকাব সংবাদটার সহিত সেদিনের স্মৃতিটা পাশাপাশি চোখের সামনে তুলিযা ধধিবামাত্র তাহার এই একান্ত বৈবাগোর १९*