প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কি করিয়া আসিল ! এই অদৃষ্টপূৰ্ব্ব সৌম র্যামীব পরিচয় সে সন্ধান করিয়া সেই রাত্রেই জানিয়া লইল এবং তখন হইতেই এই একমাত্র চিন্তা ব্যতীত তাহার আর দ্বিতীয় চিন্তা রহিল না। ইহার পর আরও দুইবার বিরাজের চোখে চোখে পড়িয়াছিল । বিরাজ বাড়িতে আসিয়া সুন্দরীকে ডাকিয়া বলিল, য'ত সুন্দরী, ঘাটের ধারে কে একটা লোক পরীস্থানের ওপর দাড়িয়ে আছে, মান ক’রে দি গে, যেন আর কোনদিন আমাদের বাগানে না ঢোকে । স্বন্দরী মানা করিতে আসিল, কিন্তু নিকটে আসিয়া হতবুদ্ধি হইয়া গিয়া বলিল, বাবু আপনি ! রাজেন্দ্র স্বন্দরীর মুখের দিকে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিল, তুমি আমাকে চেন নাকি ? স্বন্দরী বলিল, আঞ্জে স্থা বাৰু, আপনাকে আর কে না চেনে ? আমি কোথায় থাকি, জান ? সুন্দরী কহিল, জানি । রাজেন্দ্র বলিল, আজি একবার ওখানে আসতে পায় ? সুন্দরী সলজ্জ হান্তে মুখ নীচু করিয়া আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, কেন বাৰু? দরকার আছে, একবার ঘেও, বলিয়া রাজেন্দ্র বন্দুক কাধে তুলিয়া চলিয়া গেল। ইহার পর অনেকবার মুন্দরী গোপনে, নিভৃতে ওপারের জমিদার কাছারিতে গিয়াছে, অনেক কথা কহিয়াছে, কিন্তু ফিরিয়া আসিয়া এক-আধটু ইঙ্গিতে ভিন্ন কোন কথা বিরাজের সামনে উথাপন করিতে সাহস করে নাই। সুন্দরী নিৰ্ব্বোধ ছিল না ; সে বিরাজ-বেীকে চিনিত। বাহির হইতে এই বধুটিকে যতই মধুর এবং কোমল দেখাক না কেন, ভিতরের প্রকৃতি যে তাহার উগ্র এবং পাথরের মত কঠিন ছিল, কুন্দরী তাহ ঠিক জানিত । ৰিয়াজের দেহে আরও একটা বস্তু ছিল, সে তাহার অপরিমেয় সাহস। তা সে মানুষই হোক, আর সাপ-খোপ, ভূত-প্রেতই হোক, ভয় কাহাকে বলে তাহা সে একেবারেই জনিত না । মুন্দরী কতকটা সে কারণেও এতদিন আর তাহার মুখ খুলিতে পারে নাই । বিরাজ উচুনের কাঠটা ঠেলিয়া দিয়া ফিরিয়া চাহিয়া বলিল, আচ্ছ স্বন্দরী, তুই ত অনেক বার সেখানে গিয়েছিল, এসেছিল, অনেক কথাও কয়েছিল, কিন্তু আমাকে ত একটি কথাও বলিস্নি ? সুন্দরী প্রথমটা হতবুদ্ধি হইয়া গেল, কিন্তু পরক্ষণেই সামলাইয়া লইয়া কহিল, কে তোমাকে বললে মা, আমি অনেক কথা কয়ে এসেছি ? বিরাজ বলিল, কেউ বলেনি, আমি নিজেই জানি। আমাদের কপালের পেছনে আর দুটো চোখ-কান আছে। বলি, কাল কটাক বকশিশ, নিয়ে এলি? দশ টাকা ? মুদী বিশ্বরে অবাক হইয়া গেল। তাহার মুখের উপরে একটা পাণ্ডুর ছায়া Ros