প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জীকান্ত টগর চীৎকার করিয়া উঠিল—জাত তুলে কথা ক’য়ে না বলচি মিস্তিরী—ভাল হবে না, তা বলচি– - চীংকার শব্দে যাহারা মুখ তুলিয়া চাহিল, তাহদের বিক্ষিত দৃষ্টির সম্মুখে নন্দ এতটুকু হইয়া গেল। টগরকে সে ভালোমতোই চিনিত, একটা বেফাস ঠাট্টার জন্য ক্রোধটা তাহার সে শান্ত করিতে পারিলেই বাচে। লজ্জিত হইয়া তাড়াতাড়ি বলিল, মাথা খাস্ টগর, রাগ করিস নে-আমি তামাশা করেচি বৈত নয়। টগর সে কথা কানেও তুলিল না। চোখের তারা, ভুরু একবার বামে ও একবার দক্ষিণে ঘুরাইয়া লইয়া, গলার স্বর আরও এক পর্দা চড়াইয়া দিয়া বলিল, কিসের তামাশা ! জাত তুলে আবার তামাশা কি ! মোচলমানের রুটি দিয়ে মালসা-ভোগ হবে ? তোর কৈবন্তর মুখে আগুন—দরকার থাকে, তুই তুলে রাখ, গে-বাপের পিণ্ডি দি ! জ্যা-মুক্ত ধমুর মত নন্দ খাড়া দাড়াইয়া উঠিয়াই টগরের কেশাকর্ষণ করিয়া ধরিলহারামজাদি, তুই বাবা তুলিস ? টগর কোমরে কাপড় জড়াইতে জড়াইতে, ইপাইতে ইপিাইতে বলিল, হরামজাদ, তুই জাত তুলিস ! বলিয়াই আকৰ্ণ মুখবাদান করিয়া নন্দর বাহুর একাংশ দংশন করিয়া ধরিল এবং মুহূৰ্ত্ত-মধ্যেই নন্দ মিন্ত্রী ও টগর বোষ্টমীয় মল্লযুদ্ধ তুমুল হইয়া উঠিল। দেখিতে দেখিতে সমস্ত লোক ভিড় করিয়া ঘেরিয়া ধরিল। হিন্দুস্থানীরা সমুদ্রপীড়া ভুলিয়া উচ্চকণ্ঠে বাহবা দিতে লাগিল। পাঞ্জাবীরা ছি-ছি করিতে লাগিল, উংকলবাসীরা চেচামেচি করিতে লাগিল—সবমুদ্ধ একটা কাগু বাধিয়া গেল। আমি স্তম্ভিত বিবর্ণ মুখে দাড়াইয়া রহিলাম। এত সামান্য কারণে এত বড় অনাবৃত নির্লজ্জতা যে সংসারে ঘটিতে পারে, ইহা ত আমি কল্পনা করিতেও পারিতাম না । তাহাই আবার বাঙালী নরনারী দ্বারা এক-জাহাজ লোকের সম্মুখে অনুষ্ঠিত হইতে দেখিয়া লজ্জায় মাটির সহিত মিশিয়া যাইতে লাগিলাম। কাছেই একজন জৌনপুরী দরোয়ান অত্যন্ত পরিতৃপ্তির সহিত তামাশা দেখিতেছিল ; আমাকে লক্ষ্য করিয়া কহিল, বাবুজী, বাঙ্গালীন তো বহুত আচ্ছি লড়নেওয়ালী হায়! হটুতি নহি ! আমি তাহার পানে চাহিতেও পারিলাম না। নিঃশব্দে মাথা হেঁট করিয়া কোন মতে ভিড় ঠেলিয়া উপরে পলাইয়া গেলাম। 8 সেদিন এমন প্রবৃত্তি হইল না যে নীচে যাই। সুতরাং নন-টগরের যুদ্ধের অবসান কি ভাবে হইল, সন্ধিপত্রে কোন কোন শর্তাদি নির্দিষ্ট হইল, কিছু জানি না। তবে, ২৩